২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কিউই রেকর্ড জুটিতে বিধ্বস্ত লঙ্কানরা


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ১ জানুয়ারি ২০১৪- গত বছর শুরুটাই ছিল কেন উইলিয়ামসনের দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড দিয়ে। ২০১৫ সালের প্রথম দিনে না হলেও প্রথম মাসে একাধিক রেকর্ড দেখল রঙ্গিন পোশাকের ক্রিকেট। ১৮ জানুয়ারি নিউ ওয়ান্ডারারার্সের বিস্ময় দ. আফ্রিকা অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স (৩১ বলে সেঞ্চুরি!)। সপ্তাহ না ঘুরতে এবার তা-ব নিউজিল্যান্ডের ডুনেডিনে। দ্রুততম হয়ত নয়, তবে ইউনিভার্সিটি ওভাল মাঠে লুক রনকি ও গ্রান্ট ইলিয়টের রেকর্ড জুটির অবিশ্বাস্য তা-বে বিধ্বস্ত লঙ্কানরা! ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রান সংগ্রহের নতুন রেকর্ড (২৬৭*), সাত নম্বরে নেমে রনকির ১৭০ রানের নব-ইতিহাস সব মিলিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৬০ রানের পাহাড়ে নিউজিল্যান্ড! এরপর শ্রীলঙ্কাকে ২৫২-এ গুটিয়ে দিয়ে ১০৮ রানের বড় জয়ে সাত ওয়ানডের সিরিজে ৩-১এ এগিয়ে যাওয়া। ডুনেডিনে শুক্রবার পঞ্চম ওয়ানডেতে সবকিছু হয়েছে দুই কিউই উলোবাজের মনোবাসনা পূরণ করে! অথচ টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারেই ৯৩ রানে শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে হয়ে পড়েছিল বিপর্যস্ত। পরের গল্পটা কেবলই ইলিয়ট আর রনকির। ১৮০ বলে অবিচ্ছিন্ন ২৬৭ রানের জুটি গড়ে ওয়ানডের রেকর্ড বইয়ের পরিসংখ্যানটাই বদলে দিয়েছেন। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এটিই নতুন রেকর্ড। নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসে যে কোন জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ! মাত্র ৭ রান হলেই ছুঁতে পারতেন ২০০৮ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মার্শাল-ম্যাককুলামের ২৭৪ রানের জুটি। লঙ্কান বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড়টা কী বেগেই না বয়ে গেছে তার নমুনা শেষ ১০ ওভারে ১২২ রান তুলে নেয়া। সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হয়েছেন পেসার সুরাঙ্গালাকমল, ৪৮তম ওভারে করা তার ৬ বল থেকে রনকি একাই তুলেছেন ২২ রান! ষষ্ঠ উইকেটে আগের সর্বোচ্চ রান ছিল মাহেলা জয়াবর্ধনে ও মহেন্দ্র সিং ধোনির, ২১৮ রানেরÑ ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি এশিয়া একাদশের হয়ে আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে। জবাবে ৩৬১ রানের বিশাল লক্ষ্য সামনে রেখে নামা লঙ্কানদের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। লাহিরু থিরিমান্নে-তিলকারতেœ দিলশানের উদ্বোধীন জুটিতে ১৮.৩ ওভারে ৯৩ রান। তবে ৪৫ রান করা থিরিমান্নে সাজঘরে ফেরার পর খেই হারায় অতিথিরা। স্বাগতিক পেসারদের তোপের মুখে ৪৩.৪ ওভারে ২৫২ রানে গুটিয়ে যায় টি২০’র বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একাই যা চেষ্টা করেছেন দিলশান, ক্যারিয়ারের ২০তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১১৬ রানে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ওপেনার। মাহেলা ৩০ ও জীবন মেন্ডিস ১৮ ছাড়া আর কেউ রান পাননি! কিউদের হয়ে ট্রেন্ট বোল্ট নেন ৪ উইকেট। ইলিয়ট ৯৬ বলে ১০৪*, রনিকি ৯৯ বলে ১৭০Ñ দু’জনে মিলে ষষ্ঠ উইকেটে নতুন রেকর্ড, ম্যাচসেরাও দু’জনে সম্মিলিতভাবে, এর চেয়ে আনন্দের আর কি-ই বা হতে পারত!

স্কোর ॥ নিউজিল্যান্ড ইনিংস ৩৬০/৫ (৫০ ওভার; রনকি ৩৬০*, ইলিয়ট ১০৪*, উইলিয়ামসন ২৬, ম্যাককুলাম ২৫, রস টেইলর ২০; কুলাসেকারা ২/৭১, থিরিমান্নে ২/৩৬)

শ্রীলঙ্কা ইনিংস ২৫২/১০ (৪৩.৪ ওভার; দিলশান ১১৬, থিরিমান্নে ৪৫, মাহেলা ৩০, জীবন ১৮; বোল্ট ৪/৪৪, সাউদি ২/৪২, ইলিয়ট ২/৪২, ম্যাকক্লেইনঘান ২/৫৬)।

ফল ॥ নিউজিল্যান্ড ১০৮ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা ॥ ইলিয়ট ও রনকি (নিউজিল্যান্ড)।

সিরিজ ॥ সাত ওয়ানডের সিরিজে নিউজিল্যান্ড ৩-১এ এগিয়ে।