১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। সকল রাজনৈতিক দলকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই আহ্বান জানায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

দক্ষিণ এশিয়ায় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের প্রধান জ্যাঁ ল্যাম্বার্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে সহিংস পরিস্থিতি চলছে তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দলকেই জনগণের অবাধ চলাফেরা, সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সকল পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে ল্যাম্বার্ট বলেন, সরকার ও বিরোধী দলÑ সবার কাছেই আমাদের এ প্রত্যাশা, যার অভাব আমরা এখনও দেখতে পাচ্ছি।

গত বছর মার্চে ঢাকা সফরে এসেছিলেন জ্যঁ ল্যাম্বার্ট। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বাংলাদেশ-বিষয়ক প্রস্তাব সে সময় গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তিনি। ওই প্রস্তাবে জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলাম থেকে বিএনপিকে দূরে থাকার এবং সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ করারও আহ্বান জানায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এছাড়া জ্যঁ ল্যাম্বার্ট সহিংসতা মুক্ত রাজনীতি করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বর্তমান সরকার গঠনের এক বছরের মাথায় আন্দোলনের নামে পুনরায় সহিংসতা শুরু করেছে বিএনপি।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত যাতে আরও বিপদের মুখে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে দলগুলোকে সত্যিকারের আন্তরিকতা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত সংলাপে বসার জন্য ইতোমধ্যেই আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এদিকে গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে শতাধিক হতাহত ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ওপর হামলা ও রংপুরে বাসযাত্রীদের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় ইউরোপীয় মিশনপ্রধানরা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে গত ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করার জন্য গুলশানের কার্যালয় থেকে বের হতে না পেরে সারা দেশে লাগাতার অবরোধ ডাকেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এই অবরোধের মধ্যে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন দেয়া ও বোমাবাজির মতো নাশকতা এবং সহিংসতা ঘটছে, যাতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩০ জনের। বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উদ্বেগ জানালেও খালেদা জিয়া অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।