১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাধু সাবধান!


শীতকালেই বাংলাদেশে বেড়াতে যায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা। এর অনেক কারণের মধ্যে মূল কারণ আবহাওয়া। ইউরোপ, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের কাছে বাংলাদেশের শীতকাল মনোরম ও আকষর্ণীয়। এটা একদিকে যেমন শীত নয়, অন্যদিকে এই চমৎকার আবহাওয়াই তাদের জন্য উপযোগী। এছাড়াও ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির বাংলাদেশ মানেই ঝলমলে আনন্দ উজ্জ্ব¡ল। বিজয়মেলা, একুশ, বইমেলা পিঠাপুলি আর পোশাকের বাহারে অনন্য অসাধারণ। দেশ ও দেশের আমেজবঞ্চিত প্রবাসীরা এ সময় দেশে যাবেন এটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীর সব দেশে পর্যটন বা ভ্রমণের ব্যাপারে সরকার ও রাজনীতির বিশেষ যতœ ও খেয়াল আছে। এই খাতটিকে কেন্দ্র করে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে এমন দেশও প্রচুর। প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেখতে শুনতে ভাষা ব্যবহারে খাদ্যে পোশাকে বাঙালী বটে তাদের পকেটে কিন্তু অন্য দেশের কারেন্সি। ডলার পাউন্ড দিনার ইয়েনের বাঙালীর খরচ মানে দেশের ভা-ারে বৈদেশিক মুদ্রার আনাগোনা। জানি না জীবদ্দশায় প্রয়াত কবি ডি এল রায় কতগুলো দেশ ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। কিন্তু তিনিই একমাত্র কবি যিনি বাংলাদেশকে ‘সকল দেশের রাণী’ বলে সম্বোধন করে আমাদের মনে সে ছবি এঁকে দিয়েছিলেন। এখনও তা অটুট। ছবির মতো বাংলাদেশেও শীতকাল যখন দেশী-বিদেশী মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হবার কথা যখন তার আকাশে সৌভাগ্য ও সম্ভাবনার আলো ঝিকমিক করছে বিএনপি ও জামায়াতের রাহু সে আলো গিলে খেয়ে অন্ধকার নামাতে আজ উলঙ্গপ্রায়। বাংলাদেশের রাজনীতির দুষ্টগ্রহগুলো স্বাধীনতার পর থেকেই এ জাতীয় আচরণে অভ্যস্ত। আজকাল প্রায়ই শুনি নেতৃত্বের অভাবে নাকি বাংলাদেশের এই করুণ অবস্থা!

যদি তা সত্য হয়ও, যাঁরা বলছেন তাঁদের কি আসলেই এ নিয়ে কোন ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ আছে? আছে কি কোন উত্তরণ ফর্মুলা? ঢালাওভাবে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে এক কাতারে নিয়ে আসার নামে এই জাতীয় কথাবার্তা এক ধরনের ভ-ামি। বাংলাদেশের রাজনীতি যখন থেকে নেতৃত্বহীন তখন থেকেই মধ্যবিত্তের শিরদাঁড়া ভাঙতে শুরু করেছিল। পঁচাত্তরে দেশের সার্থক ও প্রতিশ্রুতিশীল বিজয়ী নেতাদের হত্যার পর যখন যারা ক্ষমতায় সবাই কমবেশী অগণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। কোন ব্যক্তি গোষ্ঠী বা দল যদি কোন কিছু নিজের কৃতিত্বে যোগ্যতায় অর্জন না করে সে বিষয় বা তার ওপর তাদের অধিকার থাকে না। থাকে না মায়া বা ভালবাসা। তাই এরাই সুকৌশলে দেশের মধ্যবিত্তের শিরদাঁড়া ভেঙ্গে দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ নামে পরিচিত যে কোন দেশ বা সমাজের চালিকাশক্তি এই মধ্যবিত্ত। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে যাত্রার সব পর্যায়ে এরাই ছিল মূল প্রেরণা। এদের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোন দেশে বড় কোন কাজ হয় না। বিপ্লব তো দূরের কথা। কৌশলে এদের চেতনা ও আবেগ ধ্বংস করার কুফল এখন নিজেরাই ভোগ করছে। বিএনপি এবার আন্দোলনের নামে বারংবার ভাব দেখার চেষ্টা করলেও মধ্যবিত্তের ঘুম ভাঙ্গেনি। একটা কথা পরিষ্কার করে বলা প্রয়োজন, বিএনপি ও খালেদা জিয়ার সমর্থকরা যে সব কারণে ধানের শীষে ভোট দেয় তার অধিকাংশই এখন বাতিল ও পুরনো। এখন যা চলছে তা এর শেষ পর্ব। যবনিকা পতনের পূর্বে অস্তমিত খালেদার গোস্সায় দেশের এই জ্বলন্ত অবস্থা মানা যায় না। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের নামে তারা যা করছে তাতে অমঙ্গল ছাড়া লাভের কিছু নেই। এই রক্ত হত্যা ধ্বংস ও উল্লাস কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। বিএনপি এখন ভুগছে বটে এক দশক ধরে দেশ ও জাতিকে ভুগিয়ে ভারত বিরোধিতার নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি উস্কে দিয়ে কি পার পেয়েছে? পার পেলে আজ জনগণের পরিবর্তে অমিত শাহ নির্ভর রাজনীতি করতে হতো না। দূর দেশের বাঙালী এখন স্পষ্ট বুঝতে পারছে হীনবল পাকি রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তন আর আমেরিকার শক্তি ক্ষয়ে বিএনপি আজ দিশেহারা, মজেনার মতো রাষ্ট্রদূতকে দিয়ে উদ্দেশ্য হাসিল করার দলটি ভুলে গেছে আমরা নিক্সন-কিসিঞ্জারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বাধীন হওয়া দেশের মানুষ। দীর্ঘকাল অপক্ষমতা আর তথাচিত আনন্দ ভোগের পর সত্যিকার টেস্টে বিএনপির যে কঙ্কাল তাতে এটা প্রমাণিত তারা আসলেই অগণতান্ত্রিক, জেল্লা উন্মাদনা আর মিথ্যাচার দিয়ে একটা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে বশ রাখা দলটি দেশের মানুষের পাশাপাশি এখন প্রবাসীদেরও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাদেশের আনন্দ, সৌন্দর্য, শীতকালীন সজীবতাকে এভাবে রক্তাক্ত করার নাম রাজনীতি হতে পারে না। খালেদা জিয়া তার প্রবাসী পুত্র ও জামায়াতের সহিংস গ্রুপ মিলে যে অনাচার ও অন্যায় করছে তার নাম আর যাই হোক অবরোধ হতে পারে না। প্রতিদিন আগুন জ্বালিয়ে মানুষ মেরে দেশের সম্পদ ধ্বংস করে তারা বিদেশের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে। ধন্যবাদ বেগম খালেদা জিয়া আপনার বদৌলতে আজ অনেক দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশের নাম উঠে গেছে। এই তো আপনার চাওয়া।

আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় যায় তখন তাকে ঘিরে চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্র দেখেই বুঝি তারাই আসলে শুদ্ধধারা অনুগামী, কিন্তু তাদের ভেতরেও ভূত আর চক্রান্তকারী লুকিয়ে। এ যাত্রায় আন্দোলন নামের বিএনপির সন্ত্রাস আর জামায়াতের চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকাতে ঐক্যবদ্ধ হবার বিকল্প নেই। খালেদা জিয়া হীনবল, তার নৈতিক ও মানসিক শক্তি কোনটাই আগের মতো কাজ করে না। তাকে ঘিরে দুঃস্বপ্ন দেখা শেষ বয়সের বাঙালী মনন আজকের তারুণ্যের প্রতিচ্ছবি হতে পারে না। শফিক রেহমান, মতিউর রহমান চৌধুরী, আসিফ নজরুলরা এ দেশের সুযোগ সুবিধাভোগী নব্য দালাল। জনতার সঙ্গে এদের সম্পর্ক নাই। আমরা দেশের সঙ্গে প্রবাসের মেলবন্ধন ঘটিয়ে সবাই মিলে মুক্তচিন্তা ও আনন্দে বাঁচতে চাই। বিএনপিই তা হতে দিচ্ছে না, ফলে সাধু সাবধান!