২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

টাঙ্গাইলে পরিবহন ব্যবসা ॥ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে


ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল থেকে ॥ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে টাঙ্গাইলের পরিবহন ব্যবসা। বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির বলির পাঁঠায় পরিণত হওয়া যেন এই খাতের সঙ্গে জড়িতদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলমান আন্দোলনে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও পরিবহন খাত পার করছে বিভীষিকাময় এক অধ্যায়। চরম অনিশ্চয়তার মাঝে দিন পার করছে মালিক শ্রমিকসহ এই খাতের প্রায় ১০ হাজার পরিবার। খালেদা জিয়া আন্দোলনের নামে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের জিম্মি করে হত্যা করছে বলে অভিযোগ জেলার সাধারণ মালিক শ্রমিকদের। পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা জানান, মালিকদের জমা টাকা বাবদ প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় দুই কোটি টাকা। আর শ্রমিকদের বেতন ও খাওয়া খরচ হিসাব করলে জেলার প্রায় ১৫শ’ গাড়ির প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের দৈনিক ৪শ’ টাকা মজুরি ধরলেও প্রতিদিন এই শ্রমিকরা বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা থেকে। ফলে মালিক-শ্রমিকের মোট লোকসান হচ্ছে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি টাকা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ধলেশ্বরী বাসের এক সুপারভাইজার জানান, বিএনপি-জামায়াত ২০ দলের ডাকা একটানা অবরোধে প্রতিদিনের সামান্য কিছু অর্থ অর্জনের পথটিও আজ বন্ধ হয়ে গেছে। এমনিতে প্রতিদিন ৪শ’ টাকা করে পেতাম। কিন্তু এখন সে পথটিও বন্ধ। বাসায় আমার ছোট্ট একটি বাচ্চা আছে। টাকার অভাবে বাচ্চার দুধ পর্যন্ত কিনতে পারছি না। গাড়ির চালক তোতা মিয়া বলেন, রাস্তায় গাড়ি নামালে পেট্রোলবোমা মারার ভয়ে গাড়ি চালাতে পারছি না। খালেদা জিয়ার ডাকা অবরোধ মানি না। জেলার পরিবহন মালিকরা জানান, পরিবহন ব্যবসা ছাড়া তাদের আয়ের অন্য কোন উৎস নেই। টানা অবরোধের কারণে তাদের আয়ের একমাত্র উৎসটি বন্ধ হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় নিয়োজিত (এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি জয়েন্ট ভেঞ্চার) কোম্পানির তথ্য মতে, গত ৬ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অবরোধ ও হরতালের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য পরিবহন চলাচল করেছে ৬৯ হাজার ১১টি। আর টাকা আদায় হয়েছে প্রায় ৫কোটি ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার। সাধারণত প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে অন্তত ১৮-১৯ হাজার পরিবহন চলাচল করে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা।