১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

মানুষ হত্যার এই রাজনীতিকে ধিক্কার দিচ্ছেন দগ্ধরা


মানুষ হত্যার এই রাজনীতিকে ধিক্কার দিচ্ছেন দগ্ধরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটজুড়ে মানুষের পোড়া গন্ধ। আহতদের বাঁচার আকুতি, স্বজনদের আর্তনাদ। যেন বিপর্যস্ত মানবতা। এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইডেনের শারমিন, সাথী আর যুথিসহ অগ্নিদগ্ধ অনেকেই। মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তাঁরা। জামায়াত-শিবিরের পেট্রোলবোমা আর অগ্নিসংযোগের শিকার ২০ জনের বেশি মানুষ এখন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন কেউ কেউ। আহত ও তাঁদের স্বজনরা ধিক্কার জানাচ্ছেন মানুষ হত্যার রাজনীতি আর চলমান এই বর্বরতার। সবার প্রশ্নÑ জনস্বার্থে যদি রাজনীতি হয়, তাহলে মানুষ হত্যা কেন? তাহলে কি ক্ষমতার জন্যই পরিকল্পিত এই হত্যাযজ্ঞ?

সোমবার ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধদের দেখতে গিয়েছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেখানে গিয়ে তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিছানায় গিয়ে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। কথা বলেন কর্তব্যরত ডাক্তারদের সঙ্গেও। রোগী ও তাঁদের স্বজনরা চলমান এই হত্যাকা-ের শেষ কোথায় তা জানতে চান তাঁর কাছে। প্রতিকার চান অপরাধের। সমাধান চান চলমান অস্থিরতার। শান্তির বাংলাদেশের জন্য কামনা করেন প্রত্যেকে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে গিয়ে নাশকতায় দগ্ধদের দেখার পর প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ বললেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর ‘লজ্জা’ হচ্ছে। মর্মান্তিক দৃশ্য। রাজনীতিবিদ হিসেবে লজ্জা বোধ করছি। এই রাজনীতি চাই না। এটা প্রত্যাশার রাজনীতি না। এই দৃশ্য দেখলে কান্না আসে। মানুষ হত্যা করে ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। যারা এসব কাজ করছেন তাদের বিষয়টি মনে রাখতে হবে।

গত ৫ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সারাদেশে লাগাতার অবরোধ ডাকার পর থেকে প্রতিদিনই গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে। পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে যাত্রীবাহী বাসের ওপর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে টার্গেট করে চলছে বোমাবাজি, যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৪ জন দগ্ধ হয়ে তাদের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বিএনপির উদ্দেশে বলেন, আসুন সবাই বসি। সমস্যার সমাধানে আলোচনায় বসি। সবাই একসঙ্গে বসলে সমাধান বেরোবেই। মানুষ পুড়বে, হত্যা করা হবে? এটা কেমন রাজনীতি।

এরশাদ বলেন, যেহেতু আমি বয়োজ্যেষ্ঠ, আমার ডাকে সাড়া দিলে খুশি হব। ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে। বিএনপির এই আন্দোলনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যদি জনপ্রিয় দল হতো, তাহলে কর্মসূচী দিয়ে বাসায় বসে থাকত। জনগণই কর্মসূচী সফল করত। সহিংসতা চালাতে হতো না। এরশাদ বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন চাই না। দেশে নির্বাচন দেয়ার মতো কোন পরিস্থিতি আসেনি। আগে নির্বাচনের সংস্কৃতি ঠিক করতে হবে। অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এ সময় এরশাদের সঙ্গে ছিলেন। শনিবার রাতে মোহাম্মদপুরে যাত্রীবাহী বাসে অবরোধকারীদের পেট্রোলবোমায় দগ্ধ নয়জনই বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের অনেকের কাছে যান এরশাদ। নূর জাহান বেগম, আবু বকরসহ অনেকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। আহতরা বলেন, তাদের কী অপরাধ? কার স্বার্থে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এভাবে আর কতদিন চলবে। আর কত বিভৎসতা দেখবে ‘বাংলাদেশ’। শনিবার রাতে মৎস্য ভবনে হামলায় আহত পুলিশ কনস্টেবল মোর্শেদও আছেন হাসপাতালে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত দোয়া করছেন যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এই পুলিশ কনস্টেবল। তাঁর ভাগ্যে কী আছে এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেন না ডাক্তারা।