১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে তিস্তার ধু ধু বালুচর


হলুদ ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে তিস্তার ধু ধু বালুচর

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ॥ হলুদ কুমড়ার ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে তিস্তার ধু ধু বালুচর। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই হলুদ। সবুজ পাতার ফাঁকে হলদে ফুলের খেলা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কে বলবে, কয়েক মাস আগে এখানে অথৈই পানি ছিল। উত্তরাঞ্চলের কৃষক শীতের সময় মৌসুমী মঙ্গা তাড়াতে বিশেষ জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বালু মাটিতেও এ বছর ফলন বাম্পার আশা করছে তারা। শুধু কুমড়া নয়, মসলা জাতীয়সহ প্রায় ৩৩ জাতের শীতের সবজি চাষ হয়েছে এই তিস্তার বালুচরে।

তিস্তা নদীর কয়েক লাখ হেক্টর ধু ধু বালুচরে উত্তরাঞ্চলের কৃষক বিশেষ পদ্ধতিতে পানি সেচ দিয়ে শীতের মৌসুমে নানা জাতের সবজি ও মসলা জাতের ফসল ফলাচ্ছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে রয়েছে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ। এই তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের পরপরই ভাটিতে নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এতে ব্যারাজের ভাটিতে লালমনিরহাট, রংপুর ও নীলফামারী জেলায় তিস্তা নদীর তলদেশের পানি শুকিয়ে যায়। এতে তিস্তার তলদেশের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে বালুর চর পড়ে যায়। এসব বালু চরে তিস্তাপারের মানুষ বিশেষ পদ্ধতিতে সেচ দিয়ে মাটিতে ফলনশীল মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছে।

তিস্তার বালুচরে অন্য জেলার বড় বড় ব্যবসায়ী প্রজেক্ট আকারে মিষ্টি কুমড়া, আলু, বাদাম, পেঁয়াজ, মরিচ, ধনেপাতা, সরিষা, রসুন, মিষ্টি আলু, লালশাক, ফুলকপি, পাতাকপি, ভুট্টাসহ প্রায় ৩৩ প্রকারের শীতের ফসল চাষ করেছে। শীতের শুরুতেই প্রথম পর্যায়ে একবার শীতের সবজি বিক্রয় করেছে কৃষক। এখন মাঠে রয়েছে।

খুনিয়াগাছ ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান ম-ল জানান, তিস্তার চরাঞ্চলগুলো এখন খাদ্যশস্যের ভা-ারে পরিণত হয়েছে। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই কয়েক হাজার হেক্টর বিশাল বিশাল চর ও দ্বীপচর জেগে ওঠে। এসব চর ও দ্বীপচরে মানুষ সবজি ফলায়। তিনিও কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রজেক্ট করে আলু ও মিষ্টি কুমড়া চাষ করছেন। শীতে তিস্তা চরে ফসল ফলানোর কারণে এ অঞ্চল থেকে মৌসুমী কৃষি কাজের সঙ্কট কেটে গেছে। কৃষকরা ‘মঙ্গা’র অভিশাপ হতে মুক্ত হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ এখন আর সরকারের সহায়তার দিকে তাকিয়ে থাকে না। বরং বিস্তীর্ণ বালুচরে ফসল ফলিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে।

কয়েক বছর আগে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আলাউদ্দিন ফকির তিস্তাচরের কৃষককে শ্যালো মেশিন, অর্থ ও বিনাসুদে ঋণ এবং ভূমিহীন কৃষক পরিবারকে খাসজমি দিয়ে দলবদ্ধ করে সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। এরপর থেকে আর তিস্তাপারের কৃষক পরিবারগুলোকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তারা এখন লাগসই প্রযুক্তি ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহার করে ধু ধু বালু চরগুলো ফসলের মাঠে পরিণত করেছে। এজন্য কৃষককে বর্ষা মৌসুম ও আবহাওয়া সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে মাঠ পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ছড়িয়ে যাওয়ায়।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: