১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিএনপিকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান কূটনীতিকদের


তৌহিদুর রহমান ॥ বিএনপির ডাকা চলমান অবরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় বিদেশী কূটনীতিকরা দলটির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও সহিংসতা থেকে বেরিয়ে না আসায় বিএনপির প্রতি তারা এখন ক্ষুব্ধ। সরকারের প্রতিনিধি ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদেশী কূটনীতিকরা। সহিংসতামুক্ত রাজনীতির পথে আসার জন্য বিএনপি নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেনও তাঁরা।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ডাকা টানা অবরোধে প্রায় প্রতিদিনই নিরীহ মানুষ মরছে। পুড়ছে গাড়ি। অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন। ইতিমধ্যেই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন প্রায় ২৫ জন। এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদেশী কূটনীতিকরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভাপতি মঈন খানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে মিলিত হন কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা। সেই বৈঠকে কানাডা, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের আবাসিক প্রতিনিধিসহ কয়েক কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে একাধিক কূটনীতিক বিএনপিকে সহিংসতামুক্ত রাজনীতি করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসূচী গ্রহণেরও পরামর্শ দেন। এ সময় বিএনপির চলমান আন্দোলনে নিরীহ মানুষের মৃত্যৃর ঘটনায় কয়েক কূটনীতিক ক্ষোভও প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মঈন খানের বাসার বৈঠকে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান, এয়ার কমোডর (অব) শফিউর রহমান, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুুও উপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁরা কেউই সাংবাদিকদের সামনে কোন কথা বলেননি। একাধিক সূত্র জানায়, সেখানে চলমান রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় মূলত বিএনপিকে সহিংসতামুক্ত রাজনীতির পথে হাঁটার পরামর্শ দেয়া হয়।

এদিকে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক হয়। বৈঠকে বিদেশী কূটনীতিকদের সামনে বিএনপির চলমান আন্দোলনের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরা হয়। সে সময় কয়েক কূটনীতিক বিএনপির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় বিদেশী কূটনীতিকরা রংপুরে একটি বাসে আগুন দিয়ে পাঁচ নিরীহ মানুষের মৃত্যুর বিষয়টিও তুলে ধরে বাসযাত্রীদের ওপর ভয়াবহ হামলার বিষয়ে ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে মৃত্যু, শতাধিক হতাহত ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এর আগেও বিভিন্ন সময় বিএনপির সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিদেশী কূটনীতিকরা দলটিকে সহিংসতার পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার জন্য পরামর্শ দেন। সহিংসতা কোনক্রমেই মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না বলেও জানান তারা। তবে বিদেশী কূটনীতিকদের সেসব পরামর্শে কান না দিয়ে বিএনপি তাদের মতো করে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার বিদায়ী কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেয়ার আগে গত ডিসেম্বরে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি বেগম জিয়াকে পরামর্শ দেন, হরতাল বা সহিংসতা দেশ ও মানুষ কারো জন্যই ভাল ফল আনে না। এ পথ পরিহার করুন। জনগণের জন্য নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করুন। বর্তমানে রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য সাধারণ মানুষ নিহত ও গুরুতর আহত হচ্ছে। এটা কখনই গণতন্ত্রের বহির্প্রকাশ হতে পারে না। এটা এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন। এজন্য কানাডা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তবে বিএনপি বিদেশী কূটনীতিকদের এসব পরামর্শ কানে নেয়নি।

সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পরেই অন্তত দু’বছর কোন আন্দোলন কর্মসূচী না দেয়ার জন্য প্রভাবশালী কয়েকটি দেশের বিদেশী কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে বিএনপিকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। বিএনপিকে এসব কূটনীতিক বলেছিলেন, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারকে কমপক্ষে দু’বছর সময় দেয়া প্রয়োজন। বিদেশী কূটনীতিকদের সে প্রস্তাবে বিএনপি তখন রাজিও হয়েছিল। তবে জাতীয় নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতেই পুনরায় সহিংস রাজনীতিতে ফিরে আসায় বিএনপির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বিএনপি থেকে টানা অবরোধ কর্মসূচী দেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজকে জরুরীভিত্তিতে উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি ঘিরে সারাদেশে যে সহিংসতার সংস্কৃতি আবারও শুরু হয়েছে তা দেশের জন্য মোটেই কাম্য নয়। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নির্বাচন ঘিরে প্রতি পাঁচ বছর পরপর দেশে সহিংসতার রাজনীতি ফিরে এলে সেটি এদেশের অর্থনীতির জন্য মোটেই শুভ নয়। এছাড়া রংপুরে বাসে আগুন দিয়ে নিরীহ মানুষ মারার ঘটনায়ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। চলমান সহিংস ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনারও আহ্বান জানান গিবসন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: