১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

এক শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ॥ বিআইটিটি চলছে অতিথি শিক্ষক দিয়ে


ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল ॥ দৃষ্টিনন্দন ভবনের পরিপাটি ক্যাম্পাস। সপ্তম ব্যাচ মিলিয়ে দুইশ’ ১৯ শিক্ষার্থী আছেন। নেই কেবল শিক্ষক। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পাস করে বেরিয়ে গেছেন। শিক্ষক না থাকা নিয়ে আক্ষেপের অন্ত নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের।

টাঙ্গাইল শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে কালিহাতী উপজেলায় একশ’ সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজ সমাপ্তপ্রায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়নি কোন শিক্ষক-কর্মচারী। অতিথি শিক্ষক দিয়ে চলছে টেক্সটাইল ডিপ্লোমা অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা দেয়ার কাজ। ২০০৬ সালে সরকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল টেকনোলজি (বিআইটিটি) নামক প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করে। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এর নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। অবশ্য এর আগেই ২০০৭ সালে টাঙ্গাইল শহরে অবস্থিত টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

২০০৭-২০০৮ শিক্ষাবর্ষে ৫০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। সাড়ে তিন বছর মেয়াদী পাঠগ্রহণ সম্পন্ন করে বেরিয়ে গেছেন তিনটি শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে দুইশ’ ১৯ শিক্ষার্থী বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে পড়াশোনা করছেন। কিন্তু এই ইনস্টিটিউটে নিজস্ব শিক্ষক না থাকায় টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অব টেকনোলজি (ডুয়েট), টাঙ্গাইল টেকনিক্যাল কলেজ, টাঙ্গাইল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও সরকারী সা’দত কলেজ থেকে অতিথি শিক্ষক এনে কোন রকমে পাঠদান চালিয়ে নেয়া হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বাইরে ঘোরাফেরা করছেন। ক্যাম্পাসের অদূরবর্তী হোস্টেলের সামনে দলবেঁধে কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। হোস্টেল নির্মাণ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত পানির সংযোগ দেয়া হয়নি। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিষ্ঠানে কোন শিক্ষক নেই। তাই আমাদের তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয় কখন কোন শিক্ষক পড়াতে আসবেন। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ধার করে আনা শিক্ষকরা তো যখন সুযোগ-সুবিধা হয়, তখনই আসবেন। আগে তো তাঁদের নিজেদের ছাত্রদের পড়াবেন, তারপর ভাববেন আমাদের কথা। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে যাওয়া মনিরুজ্জামান বলেন, নতুনরা আমাদের তুলনায় সৌভাগ্যবান। তারা এখন নিজস্ব ক্যাম্পাস পেয়েছেন। আমাদের তো ক্যাম্পাসও ছিল না। বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতাউল ইসলাম বলেন, ফুলটাইম ৪ জন শিক্ষক এবং ৩৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে চলছে কলেজের কার্যক্রম। তবে এই সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অতিথি শিক্ষক দিয়ে যথাযথভাবে পাঠদানের চেষ্টা করছেন।