২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সুন্দরবনে ২৫ হাজার জেলে শুঁটকি উৎপাদনে জড়িত


বঙ্গোপসাগর উপকূলে পূর্ব সুন্দরবনে আলোরকোল-দুবলাসহ নয়নাভিরাম ১১টি চর নিয়ে সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লী। শুঁটকি আহরণ মৌসুমে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের শুরুতেই এই চরগুলোতে জেলে-বহরদ্দাররা আসতে শুরু করেন। পাঁচ মাস ধরে চলে সুন্দরবন উপকূলে শুঁটকি আহরণ। কমপক্ষে ২৫ হাজার জেলে-বহরদ্দার শুঁটকি মৌসুমের পুরো সময়টাই এখানে থাকেন। তবে সেই থাকাটা নিদারুণ কষ্টের। নিতান্ত পেটের দায়ে থাকতে হয়। কেননা এখানে তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল নেই, খাবারের পানি নেই, স্বাস্থ্য সেবার আক্ষরিক অর্থেই কোন সুব্যবস্থা নেই। উপরন্তু আছে সশস্ত্র দস্যুদের সীমাহীন উপদ্রব-অত্যাচার।

এভাবেই বছরের পর বছর ধরে শুঁটকি পল্লীর জেলে বহরদ্দার জীবন-মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে দেশের জন্য কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও তাঁদের ভাগ্য বদলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ আজও নেয়া হয়নি। মৎস্য ও প্রাণী মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লীর জেলেরাই বললেন।

জেলেদের সার্বিক বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে প্রথমবারের মতো মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ৩ দিনের সফরে সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লীতে যান। ভারত ও মিয়নমারের কাছ থেকে সমুদ্র বিজয়ের পর সরকার বিস্তৃত সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ সুন্দরবনের শুঁটকি পল্লী পরিদর্শন ও আলোরকোলে জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আলোরকোল শুঁটকি পল্লীর বহরদার গাজী গোলাম রসুল বলেন, ‘আমি ১৯৮১ সাল থেকে সুন্দরবনে এই শুঁটকি পল্লীতে থেকে জেলেদের দিয়ে সাগরে মাছ আহরণ করে আসছি। আমরা প্রায় ত্রিশ হাজার জেলে ও ব্যবসায়ীরা বন বিভাগকে নির্ধারিত রাজস্ব দিয়ে শুঁটকি মৌসুমে এই চরে আসি। কমপক্ষে পাঁচ মাস এখানে অবস্থান করি। সিডর ও আইলার মতো বড় বড় দুর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ আহরণ করে থাকি অথচ সরকার আসে সরকার যায় আমাদের সমস্যার কোন সমাধান হয় না। নেই কোন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র। কারিতাসের তৈরি ৪টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ২টি এখন পরিত্যক্ত। সেখানে কথা হয় জেলে নুর মোহাম্মদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, কি কমু ভাই আমাদের ভাগ্যের কথা। বৌ-ছল-মাইয়া রাইখ্যা সাগরে মাছ ধরতি আসি। বনে বাঘ, পানিতে কুমির, ঝড়-বন্যা মাথায় নিয়া প্রায় ১৬ বছর ধইর‌্যা পেটের টানে মাছ ধরছি। তারপরও ডাকাইতের অত্যাচার। কোথায় যাব- বাপ-দাদার আমল থ্যাক্যা এ কাজ করত্যাছি। খাবার পানি সমস্যা ও জ্বরজারিসহ অসুখ ওইলে কেউ দেখার নেই।