২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

লক্ষ্মীপুরের যুবককে উগান্ডায় হত্যা


নিজস্ব সংবাদদাতা, লক্ষ্মীপুর, ১৬ জানুয়ারি ॥ উগান্ডায় জাকির হোসেন (২৪) নামের এক বাংলাদেশী যুবককে আদম ব্যবসায়ী ও তার সহযোগীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৯ জানুয়ারি সকালে উগান্ডার রাজধানী কামপালার অদূরে জাকিরকে বেদম মারধর করার পর সে মারা গেছে। এ ঘটনায় আদম ব্যাপারীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির করছে নিহতের পরিবার। নিহত জাকিরের দেশের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আটিয়াতলী গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার পুত্র। এ মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে তার মা সামছুন নাহার ও স্বজনদের মধ্যে চলছে শোকের মাতন।

এদিকে জাকিরকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যার জন্য আদম ব্যবসায়ী (দালাল) শরীফ হোসেন ও তার সহযোগী দেলোয়ারসহ অন্যদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের বড় ভাই সামছুদ্দিন। তিনি ভাইয়ের লাশ ফিরে পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সামছুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, জমি বিক্রি ও সুদের ওপর চার লাখ টাকা নিয়ে গত বছরের ১৩ নবেম্বর জাকিরকে দক্ষিণ অফ্রিকায় পাঠান। অস্বচ্ছল পরিবারের মুখে হাসি ফুটাতে তাকে বিদেশ পাঠানো হয়। লক্ষ্মীপুর সদরের বিজয়নগর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে আদম ব্যবসায়ী শরীফ হোসেনের মাধ্যমে তাকে পাঠানো হয়। কিন্তু শরীফ ও তার সহযোগীরা জাকিরকে দক্ষিণ অফ্রিকায় না নিয়ে ১৪ নবেম্বর সকালে দুবাই হয়ে উগান্ডায় নেয়। এ প্রতারণা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে শরীফসহ অন্যরা জানায়, ‘জাকিরকে আপাতত কয়েকদিন উগান্ডায় থাকতে হবে। পরিস্থিতি ভাল হলে পরে দক্ষিণ অফ্রিকায় নেয়া হবে।’ এরপর সে দেড় মাস অবস্থান করে সেখানে। এ সময় চাকরির কথা বললে শরীফ ও তার সহযোগীরা জাকিরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। তাকে প্রায় সময় কোন খাবার দেয়া হতো না। এ নিয়ে জাকিরের সঙ্গে দেলোয়ার ও কয়েকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে ৯ জানুয়ারি সকালে উগান্ডার রাজধানী কামপালার অদূরে জাকিরকে বেদম মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজধানীর অদূরে ফেইস হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। ১০ জানুয়ারি রাতে দেলোয়ার ২৫৬৭৫৯৫১২৭৪২ নাম্বার থেকে মোবাইল ফোনে তাদের জানায়, ‘জাকির অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। বর্তমানে উগান্ডার রাজধানীর কামপালার ফেইস হাসপাতাল মর্গে লাশ পড়ে আছে। লাশ বাংলাদেশে আনতে নিতে ৮ লাখ টাকা লাগবে।’ এ টাকা তার কাছে পাঠিয়ে দেয়ার জন্য সে চাপ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে ঘটনার পর থেকে উগান্ডায় অবস্থান করা আদম ব্যবসায়ী শরীফ হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের বড় ভাই সামছুদ্দিন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী পরিবারের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আদম ব্যাপারীকে গ্রেফতার করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।