২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

গণতন্ত্র ও সন্ত্রাস


গণতন্ত্র ও সন্ত্রাস দুটি শব্দই বিপরীতমুখী। একটি যদি হয় সুস্থতা, তবে অপরটি কেবল ব্যাধিই নয়, নিশ্চিতরূপে সুস্থতাবিনাশী। একটিকে সুন্দর বললে অপরটিকে ভয়ঙ্কর বলতেই হবে। তাই এই দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না এবং গণতন্ত্রের জন্য সন্ত্রাস কাম্য নয়, বরং সন্ত্রাস গণতন্ত্রের মহাশত্রু। রাজনৈতিক দল হচ্ছে গণতন্ত্রের বাহন। গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ্যে ও চোরাগোপ্তা সন্ত্রাসী কর্মকা- চালালে রাজনৈতিক দলকে সন্ত্রাসী দলই বলতে হয়। বিএনপি দেশের অন্যতম একটি বড় রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তার কর্মকা- বিশ্লেষণ করলে তাকে সন্ত্রাসী দল আখ্যা দেয়াটাই সমীচীন বলে মনে হতে পারে। কথায় বলে ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।’ মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সন্ত্রাসী দল জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির গাঁটছড়া বাঁধার বিষয়টি যেন ওই প্রবাদটিরই একটি উদাহরণ। তাই প্রশ্ন জাগে, বিএনপির বোধোদয় হবে কবে? গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় সন্ত্রাসবাদকে সঙ্গী করে রাজনীতির ঘুঁটি চালা হলে তা বুমেরাং হয়ে উঠতে পারে। গণতন্ত্র রক্ষার নামে গণতন্ত্র ধ্বংসে তারা গত দু’সপ্তাহ দেশকে অশান্ত ও অগ্নিগর্ভ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের ডাকা অবরোধের ১০ দিনে তাদের দ্বারা সংঘটিত সন্ত্রাসের শিকার হয়ে নিহত হয়েছেন ২২ জন। আহত হয়েছেন কয়েক শ’ ব্যক্তি। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে পাঁচ শ’র কাছাকাছি।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সঙ্কট নিয়ে সর্বমহলেই নানা সময়ে নানা ধরনের শঙ্কা উচ্চারিত হয়। জঙ্গীবাদ ও মৌলবাদ বর্তমানে গণতন্ত্রের প্রধান শত্রু হিসেবে দেখা দিলেও গণতান্ত্রিক বলে পরিচিত বড় রাজনৈতিক দলও যে গণতন্ত্রের অভিযাত্রার প্রতিবন্ধক হয়ে উঠতে পারে তার উদাহরণ ইতিহাসে কম নয়। তবে আশার বড় জায়গাটি হচ্ছে এ দেশের মানুষ। এরা গণতন্ত্র আকাক্সক্ষী। গণতন্ত্রকে নস্যাত করার অভিপ্রায়ে কোন ষড়যন্ত্রের সূচনা হলে তার বিপরীতে অবস্থান গ্রহণে বাংলার মানুষ কখনও পিছপা হয়নি। পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের ভেতর দিয়ে কথিত রাজনৈতিক জোটটি গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এটা কাক্সিক্ষত হতে পারে না।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, যাতে প্রতিটি নাগরিকের সমানাধিকার রয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্রের সুবিধা নিয়ে সন্ত্রাস, নাশকতা ও মানুষ হত্যা করা হলে তা বন্ধ করা সুশাসনের অংশ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রাখতে হলে সব ধরনের সন্ত্রাস এবং নাশকতা বন্ধ করতেই হবে।