২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ভবিষ্যতের আচরণ বলে দেবে ব্রেইন ইমেজিং


ব্রেইন ইমেজিং হলো মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ নিরূপণের একটা কৌশল। এর মাধ্যমে জানা যাবে, অংকে কোন ছাত্র পরবর্তী অধ্যায়ে কতখানি পারদর্শিতা দেখাতে পারবে, কোন অপরাধীর পুনরায় অপরাধে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছা ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতে মাদকাসক্তি ও এ্যালকোহলের নেশা হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু ইত্যাদি

শিশুর বিশেষ প্রয়োজন বা চাহিদা কী কী, তা যদি আগে থেকে বলে দেয়া সম্ভব হতো এবং সে অনুযায়ী তার শিক্ষা কার্যক্রম উদ্ভাবন করা যেত তাহলে কতই না ভাল হতো। কিংবা মনো চিকিৎসার কোন ওষুধে রোগীর নির্দিষ্ট কিছু রক্ষণের উন্নতি না অবনতি হবে, তা যদি আগে থেকে জানতে পারা ডাক্তারদের পক্ষে সম্ভব হতো তাহলে কত সুবিধাই না হতো! বাস্তবেও এ সম্ভাবনাগুলো দেখা দিয়েছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়।

যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির একদল গবেষক দেখিয়েছেন যে, ম্যাগনেটিক রিজোনেন্স ইমেজিং (এমআরআই) এর মতো ব্রেইন স্ক্যানের ড্যাটা বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞানীরা একদিন এ ধরনের কিংবা তার চেয়েও বেশি কিছুর পূর্বাভাস দিতে পারবেন। বলে দিতে পারবেন কোন ব্যক্তির অপরাধমূলক কর্মকা-ে অংশ নেয়ার কিংবা তাঁর মাদক বা এ্যালকোহল নেশার চিকিৎসায় সাফল্য অর্জনের অথবা জীবদ্দশায় তাঁর বিশেষ কোন মেধার বিকাশ ঘটানোর সম্ভাবনা কতটুকু। কেননা মস্তিষ্কের কিছু কিছু মার্কার বা সূচক আছে সেগুলোর সঙ্গে উপরের ওই বিষয়গুলোর যোগসূত্র আছে। সেগুলো যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করলে আগে থেকে অনেক কিছুরই পূর্বাভাস দেয়া যেতে পারে।

ব্রেইন ইমেজিং হলো মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ নিরূপণের একটা কৌশল। এফএমআরআই হলো মস্তিষ্কের ছবি নেয়ার একটা মৌলিক কৌশল, যার মাধ্যমে মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ অনুযায়ী রক্ত প্রবাহের ক্ষেত্রে যে সব পরিবর্তন ঘটে থাকে তা দেখে ও বিশ্লেষণ করে সেই ক্রিয়াকলাপগুলো বুঝা যায়। এমআইটির অধ্যাপক ড. জন গ্র্যাব্রিয়েলি ভবিষ্যতের নানান ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে ব্রেইন ইমেজিংয়ের পূর্বাভাস দানমূলক ক্ষমতার বর্ণনা দিয়েছেন, যার মধ্যে আছে পাঠের ব্যাপারে শিশু পরবর্তী পর্যায়ে কতটুকু কী করবে, অংকে কোন ছাত্র পরবর্তী অধ্যায়ে কতখানি পারদর্শিতা দেখাতে পারবে, কোন অপরাধীর পুনরায় অপরাধে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছা ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতে মাদকাসক্তি ও এ্যালকোহলের নেশা হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা অনেক সময় লেখাপড়া বা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অপেক্ষায় থাকি, যাতে কেউ এ সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেই তাকে সাহায্য করা যায়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। আমরা যদি নিউরোইমেজিংকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা কাদের অত্যন্ত বেশি সেটা চিহ্নিত করতে পারি, তাহলে এ ধরনের ব্যর্থতা সম্পূর্ণরূপে এড়ানোর জন্য সে সব ব্যক্তিকে সাহায্য করতে সক্ষম হব।’

সূত্র : লাইফ সায়েন্স