২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ময়মনসিংহে বোরো আবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষক


স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥ হরতাল অবরোধেও ঘরে বসে নেই ময়মনসিংহের কৃষকরা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বোরো আবাদে। তবে হরতাল অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সার ও ডিজেলের সঙ্কটের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা এই অবস্থা চলতে থাকলে সার ও ডিজেল সঙ্কটে চলতি বোরো আবাদ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে ব্যাহত হতে পারে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরকালীবাড়ি গ্রামের সম্পন্ন কৃষক আকরাম হোসেন চলতি মৌসুমে সাড়ে চার একর জমিতে বোরো আবাদের প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় বীজতলাসহ চাহিদার অর্ধেক ইউরিয়া সার ও ডিজেল মজুদ করে রেখেছেন। কিন্তু লাগাতার অবরোধ আর হরতালের কারণে পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চাহিদার পুরো সার ও ডিজেল মিলবে কিনা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন এই কৃষক। আকরাম হোসেন জানান, এখন বোরো রোপণের ভরা মৌসুম। জমিতে সেচসহ রোপণের কাজ চলছে জোরোশোরে। এরই মধ্যে তিনি প্রায় এক একর জমিতে বোরোর চারা রোপণ করেছেন। পাওয়ার টিলারে হাল চাষ ও সেচে প্রতিদিন তার প্রয়োজন পড়ছে ১০ লিটার ডিজেলের। স্থানীয় পাম্প থেকে চাহিদার ডিজেল পেতে এখনও তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না। তবে যেভাবে গাড়িতে আগুনসহ নাশকতা চালানো হচ্ছে তাতে করে ডিজেল পরিবহনে সমস্যা দেখা দিলে তৈরি হবে সঙ্কট। তখন চাহিদার ডিজেল মিলবে কিনা আশঙ্কায় তিনি এরই মধ্যে কিছু ডিজেল মজুদ করে রেখেছেন। মজুদ করছেন চাহিদার ইউরিয়া সারও। তারপরও শঙ্কার শেষ নেই আকরামের। ভরা মৌসুমে চাহিদার সার ও ডিজেল প্রাপ্তির অনিশ্চয়তায় এরই মধ্যে জমি বর্গা দিয়েছেন ময়মনসিংহ সদরের রঘুরামপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানসহ অনেকে। তারাও জানান, এরকম আশঙ্কার কথা। তারপরও ঘরে বসে নেই ময়মনসিংহের কোন কৃষক। হরতাল অবরোধ আর তীব্র শীতের মধ্যেও করছেন জমির পরিচর্যা। জানিয়েছেন হরতালে পরিবহন সঙ্কট হলে পেরেশান বাড়ার কথা। এদিকে স্থানীয় সার ও জ্বালানি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতেই এই সঙ্কট প্রভাব ফেলবে বোরো আবাদ ও ফলনের ওপর। সার ডিলার হাজী আব্দুল মান্নান জানান, এখন পর্যন্ত সারের চাহিদা কম। মধ্য জানুয়ারির পর থেকে এই চাহিদা বাড়বে। এ সময় হরতাল অবরোধে পরিবহন বাধাগ্রস্ত হলে সমস্যা কিছুটা হতে পারে বলে আশঙ্কা এই সার ব্যবসায়ীর। ময়মনসিংহের সাইফুল ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী সাইফুল আলম ফেরদৌস জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের লরিতে কোন সমস্যা নেই। তবে নাশকতার কারণে ডিপো থেকে লরিতে ডিজেলসহ জ্বালানি পরিবহনে ঝুঁকি বাড়ছে।