২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জুলিয়েটের গল্প...


রাজধানীর এয়ারপোর্ট ছাড়িয়ে আমাদের গাড়ি তখন উত্তরার মাসকট প্লাজার সামনে। মাহিকে ফোন করতেই মাহি জবাব দিলেন, ‘নির্ধারিত সময় হতে এখনও ১৫ মিনিট বাকি। আমি এরইমধ্যে আসছি।’ প্রায় বলা যায় ফোন রাখতে রাখতেই যেন আমাদের পূর্ব নির্ধারিত ক্যাফেতে এসে হাজির হলেন মাহি। মাহি নাকি এমনই, সবাই বলেন। কেমন সেটা? ‘মাহি কাউকে যে সময় দেন সেই সময়ের আগেই গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। শূটিংস্পটে আজ পর্যন্ত দেরিতে পৌঁছানোর কোন অভিযোগ উঠেনি তাঁর বিরুদ্ধে। যথাসময়ে লোকেশনে পৌঁছানো, নির্ধারিত সময়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো, পরিচালকের ইচ্ছেমতো শূটিং করে সময়েরও অনেক পরে লোকেশন থেকে বাড়িতে ফেরা সবই মাহি মেনে নেন নিজের জন্য। কারণ মাহি চলচ্চিত্র শিল্পটাকে ভালবাসতে শিখেছেন। আজ শুধু এই বাংলায় নয় ওপার বাংলাতেও তাঁর সুনাম ছাড়িয়ে পড়েছে। যে কারণে ওপার বাংলার দর্শকরাও তাঁকে তাদের বড় পর্দায় দেখতে আগ্রহী। দর্শকের এই আগ্রহের কথা মাথায় রেখেই দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’ চলচ্চিত্র। এটি মুক্তি পাবে আগামীকাল। এতে রোমিও অংকুষের বিপরীতে জুলিয়েট চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি। কেমন ছিল জুলিয়েট চরিত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা? গরম কফিতে এক চুমুক দিয়ে মাহি বলেন, ‘জুলিয়েট অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্রে ছিল আমার জন্য। দুই বাংলার পুরো ইউনিটই আমাকে এত বেশি সহযোগিতা করেছে যে আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। ওপার বাংলার পরিচালক অশোক পতি দাদা এপার বাংলার প্রয়োজক পরিচালক আবদুল আজিজ ভাই আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। জুলিয়েট তরুণ প্রজন্মেও ভাললাগার মতো একটি চরিত্র। আমার মনে হয় দর্শক একবার যদি হলে গিয়ে চলচ্চিত্রটি উপভোগ করেন তবে আমি নিশ্চিত তারা দলবেঁধে হলে হলে যাবেন আবার চলচ্চিত্রটি দেখতে। গানে, গল্পে অসাধারণ একটি চলচ্চিত্র ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’। অংকুষের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন? এবার মাহি একটু ভাবনার আকাশে উড়াল দিলেন। নিজের মাঝে ফিরে এসে মাহি বলেন, ‘জুলিয়েট চরিত্রে অভিনয় করার জন্য আমি আসলে তেমন কোন জোর প্রস্তুতি নিতেই পারিনি। কিন্তু অংকুষ আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছে। তার কাছে অভিনয়ের অনেক কিছুই শিখেছি আমি। কলকাতায় জিৎ দেব’র পর তার নামটি এখন বেশ আলোচনায় এসেছে কয়েকটি কারণে। তারমধ্যে বিশেষ দুটি কারণ হচ্ছে অংকুষ খুব ভাল অভিনয় জানে, নাচ জানে এবং খুব ভাল মনের একজন মানুষ তিনি।’ এখন কি কি ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত আপনি? এইতো আজ শেষ করেছি সাফি উদ্দিন সাফি স্যারের ‘বিগ ব্রাদার’ চলচ্চিত্রের কাজ। এতে আমার বিপরীতে আছেন শিপন। তারসঙ্গে গত বছরের শেষপ্রান্তে মুক্তি পায় সৈকত নাসির পরিচালিত ‘দেশা দ্য লিডার’ চলচ্চিত্র। এটি বেশ ভাল ব্যবসা করেছে। এখনও দর্শক হলে হলে দেখছেন। সত্যি বলতে কী আমি বিশ্বাস কররি ভাল চলচ্চিত্র নির্মিত হলে দর্শক তা হলে গিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। এই ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’ নিয়েও আমি দারুণ আশাবাদী যে দর্শক হলে গিয়ে চলচ্চিত্রটি দেখবেন। যাই হোক পুরো জানুয়ারি মাস আমি নিজের ফিটনেস নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাব। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চলে যাবে কলকাতায়। সেখানে ইফতেখার চৌধুরীর নির্দেশনায় ‘অগ্নি-২’ (কলকাতায় অগ্নি) চলচ্চিত্রের শূটিং করব। এতে আমার সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করবেন ওম নামের নবাগত একজন নায়ক।’ মাহিয়া মাহি অভিনীত যে চলচ্চিত্রগুলো গত বছর ব্যবসা সফল ছিল সেগুলো হচ্ছে ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত ‘অগ্নি’, সাফি উদ্দিন সাফি পরিচালিত ‘হানিমুন’, জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘অনেক সাধের ময়না’ ও সৈকত নাসির পরিচালিত ‘দেশা দ্য লিডার’। এই চারটি চলচ্চিত্রই নির্মিত হয়েছে ‘জাজ মাল্টিমিডিয়া’র ব্যানারে। কারণে অকারণে একবাক্যে এই সময়ের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সবাই স্বীকার করছেন কিংবা মেনে নিচ্ছেন সময়ের সেরা নায়িকা মাহিয়া মাহি। একজন তন্বী তরুণী নায়িকার মধ্যে যা যা থাকা অত্যাবশ্যকীয় তাঁর সবই আছে। অভিনয়ে সিদ্ধহস্ত মাহি শুধু অভিনয়েই নিজেকে দক্ষ করে তুলেননি পাশাপাশি নিজেকে খুব অল্পসময়ে পর্দায় দর্শকের স্বপ্নের নায়িকায় পরিণত করেছেন। যে কারণে দর্শকের কাছেও মাহিয়া মাহি এখন নাম্বার ওয়ান নায়িকা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন। মাহির জন্য রইল শুভ কামনা।