২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

জোনাকজ্ব¡লা আলো...


রাস্তায় যখন রিক্সাটা তখনই হৈ-হুল্লোড় বেশ জমে উঠেছে শুনতে পেলাম। রবীন্দ্র সরোবরে গিয়ে পৌঁছালাম পড়ন্ত বিকেলে। ‘চলুন, একীভূত সমাজ গড়ি’ এই অঙ্গীকার নিয়ে ৮ জানুয়ারি ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত হলো ওপেন কনসার্ট। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংগঠন (ডিপিও) বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ এ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের (বি-স্ক্যান) আয়োজনে বিভিন্ন ব্যান্ড দল এবং শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন এই কনসার্টে।

এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র তারকা ফেরদৌস। তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার নিয়ে সচেতন হন, তবে আর কোন বৈষম্য থাকবে না। সেজন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। জানালেন, প্রতিবন্ধী ইস্যু নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন তিনি। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন বি-স্ক্যানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবরিনা সুলতানা ও তানভির আরাফাত ধ্রুব।

তবে দারুণ একটা কথা বললেন ‘জলের গান’র রাহুল আনন্দ উজ্জ্বল তরুণদের সামনে দাঁড়িয়ে জানালেন, রাতের অন্ধকারে হাতের ওপর হাত যখন রাখি নিজেরা নিজেদের। তখন কি প্রতিটা মানুষই অনুভব করি না সবার মাঝেই আছে অনেক প্রতিবন্ধকতা? আমরা প্রতিবন্ধকতা নিয়েই মানুষ।

সামনে তখন উচ্ছ্বাস আর আনন্দ খেলা করছে। হাতে হাত রেখে পাশাপাশি বসে কেউ। কেউ বসে হুইল চেয়ারে। সবার চোখে সমান আনন্দ। সবারই হৃদয়জুড়ে উন্মাতাল তারুণ্য। আর মঞ্চে জলের গান গাইছে ‘এই পাগলের ভালবাসাটুকু নিও ...।’

জলের গান ছাড়াও এ আয়োজনে বি-স্ক্যানের সঙ্গে ছিল নেফারিয়াস সেনটিনেল, আবর্তন ও শহরতলী। অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে আরও ছিলেন চাঁদের কণা, স্বপ্না চাঁদনী, নজরুল ইসলাম। সব ছাপিয়ে যে কোন প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গে নিয়ে কিংবা না নিয়ে এ আনন্দ আয়োজনে সবাই হয়ে ওঠেন দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক, শিল্পী কিংবা আয়োজক।পরিচয় গড়ে ওঠে এইভাবে হাতে হাত রেখে আর বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবি এভাবেই আলো ছড়ায় জোনাকি অনেক আঁধারের মাঝে!