২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খাদ্য আমদানি বন্ধ, বিক্রি হচ্ছে না ডিম রাজনীতির বেড়াজালে বিপর্যস্ত রাজশাহীর


মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ টানা অবরোধের মুখে ধস নেমেছে রাজশাহীর পোল্ট্রিশিল্পে। একদিকে খাদ্য সংকট অন্যদিকে ডিম বিক্রি করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়েছে রাজশাহীর প্রায় দুই হাজার খামারি।

নানা কারণে এমনিতে রাজশাহীর পোল্ট্রিশিল্পে ধস চলছে কয়েক বছর থেকে। বয়লার মুরগির দাম না পাওয়া, ডিমের বাজারে মূল্য হ্রাস এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টানা অবরোধ। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে পোল্ট্রিশিল্পের মালিকদের।

রাজশাহী পোল্ট্রিশিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেড় বছর আগেই রাজশাহীতে ছোট-বড় বয়লার মুরগির খামার ছিল প্রায় ৪ হাজারের মতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ ২ হাজার। এসব খামারিরা দফায় দফায় লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে কোন মতে ব্যবসা নিয়ে টিকে ছিল। চলতি অবরোধে আবারও লোকসানের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

খামারিরা জানিয়েছেন, অবরোধ ও হরতালের কারণ দুটি সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। বাজারে তাঁরা উৎপাদিত ডিম বিক্রি করতে পারছেন না। অপরদিকে খাবার ও ওষুধ আনতে পারছেন না।

রাজশাহী মহানগরীর আশরাফের মোড় এলাকার খামারি ও ফিড ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, ৩ হাজার লেয়ার মুরগি নিয়ে একটি খামার আছে তার। প্রতিদিন ওই খামার থেকে দুই হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ ডিম উৎপাদন হয়। গত ৫ দিন থেকে ডিমগুলো তিনি বিক্রি করতে পারেননি। প্রায় ১৫ হাজার ডিম অবিক্রিত রয়েছে এখন তার খামারে।

তিনি আরও জানান, খামারে ডিম সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করে রাখা যায়। ইতোমধ্যে অনেক খামারি ৬ থেকে ৮ দিন ধরে ডিম সংরক্ষণ করে রেখেছে। আর ৫ থেকে ৬ দিনের মধ্যে অবস্থা স্বাভাবিক না হলে মোটা অঙ্কের টাকা লোকশানের মুখে পড়বেন তাঁরা। একই এলাকার খামারি রিয়াজুল ইসলাম জানান, তাঁর দুই হাজার মুরগির একটি খামার আছে। ডিমগুলো সংরক্ষণের জন্য তিনি খাঁচার ব্যবস্থাও করতে পারেননি। বিভিন্ন ধরনের পাতিলের মধ্যে ডিমগুলো রাখা হয়েছে। গাড়ি চলাচল করতে না পারার জন্য আশপাশের জেলাগুলোতে তারা ডিম পাঠাতে পারছেন না।

অপরদিকে খামারি রেজাউল করিম জানান, ডিম রফতানির পাশাপাশি খামারগুলো খাদ্য সংকটে পড়েছে। মুরগির খাবার তাঁদের ঢাকা, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া থেকে আনতে হয়। কিন্তু টানা অবরোধের কারণে মুরগির খাবার আমদানি করতে পারছেন না। বর্তমান বাজার লেয়ার মুরগির প্রতিবস্তা (৫০) কেজি ফিডের দাম এক হাজার ৮০০ টাকা ও মাংস উৎপাদন মুরগির দাম ২ হাজার ৩০০ টাকা। ইতোমধ্যেই অনেক খামারে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী পোল্ট্রি এ্যাসোশিয়ানের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক জানান, এ ধরনের পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন। তা না হলে এ শিল্পের সঙ্গে লোকজন আবারও ক্ষতির মুখে পড়বে।