১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

৪৩ বছর পর জামালপুরে সংরক্ষিত হলো গণকবর


আজিজুর রহমান ডল, জামালপুর থেকে ॥ ধানুয়া-কামালপুর মহান মুক্তিযুদ্ধে জামালপুর জেলার রক্তাক্ত জনপদ। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তবর্তী বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া-কামালপুরে রয়েছে একাত্তরের বীর সেনানী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা অসংখ্য মুক্তিকামী নিরীহ মানুষের গণকবর। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবরসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলো দিন দিনে মুছে যেতে বসেছিল। অবহেলা, অযতœ অরক্ষিত পড়ে থাকায় ধুলো বালির পলেস্তরা জমে শহীদদের গণকরব এবং স্মৃতিচিহ্নগুলো লোকচক্ষুর আড়াল হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘ ৪৩ বছর পর হলেও শহীদদের মর্যাদা ও স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ধানুয়া-কামালপুরের ঐতিহাসিক রণাঙ্গনের বীরশহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবর এবং স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষায় এগিয়ে এসেছেন এক কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. মাহবুবুল হক বাবুল চিশতী। ডিসেম্বরে ২০১৪ ধানুয়া-কামালপুর পাকিস্তানী হানাদারমুক্ত দিবস পালনের দিন সদ্যনির্মিত আট শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থান, ১১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম এবং শহীদ ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন মমজাত বীর উত্তমের স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ধানুয়া-কামালপুর রণাঙ্গন যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম। এই সেক্টরের সদর দফতর ছিল সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের মহেন্দ্রগঞ্জ। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে এই সেক্টরকে ৮টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। সাবসেক্টরগুলো হচ্ছে, মহেন্দ্রগঞ্জ, মানকারচর, পুরাকাশিয়া, ঢালু, বাঘমারা, শিববাড়ি, রংড়া ও মহেশখোলা। এই সেক্টরের দুই কিলোমিটার অদূরেই ধানুয়া কামালপুরে ছিল পাকসেনাদের একটি শক্তিশালী দুর্ভেদ্য সুরক্ষিত ঘাঁটি। অবহেলায় অযতেœ অরক্ষিত পড়ে ছিল মুক্তিযুদ্ধের আট শহীদের কবর। অবশেষে সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদের কবরের মাটি রক্ষা পেয়েছে। শহীদদের মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের নাম চিরভাস্কর করে রাখার জন্য কবরস্থানটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। ধানুয়া কামালপুরে যুদ্ধে শহীদ হন মেলান্দহের আমানউল্লাহ কবীর বীর বিক্রম, মাদারগঞ্জের মো. শাহজাহান বীর বিক্রম, বকশীগঞ্জের গাজী আহাদুজ্জামান, ইসলামপুরের শহীদ আবদুল হাকিম, আবুল হাশেম, আবদুস সামাদ, শেরপুরের নালিতাবাড়ীর শহীদ কাজল, বকশীগঞ্জের শহীদ তছলিম উদ্দিন।