১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

নাশকতার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিশ্ব এজতেমার কারণে ১০ জানুয়ারির পরিবর্তে আগামী ১২ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে আসা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জরুরী বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, অধিকাংশ শীর্ষ নেতাই বিএনপি জনসমর্থনহীন অবরোধ চালিয়ে গেলেও কোন আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ না করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। বরং আরও কঠোরভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য শক্ত অবস্থান গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যত বড়মাপের নেতাই হোন না কেন, নাশকতা-নৈরাজ্য করলে ছাড় দেয়া হবে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার সরকার তাই করবে। কেউ নাশকতামূলক কিছু করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, জরুরী বৈঠকে বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে অধিকাংশ নেতাই বলেন, শহরগুলোয় অবরোধের কোন প্রভাব না থাকায় মহাসড়ক চালু করার বিষয়ে দ্রুতই পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক স্বাভাবিক রাখার প্রস্তাব করেন। প্রধানমন্ত্রী এসব প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। বৈঠকে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় যে, আগামী দু’তিন দিনের মধ্যেই দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বৈঠক শেষে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে পূর্বঘোষিত ওই দিনের জনসভা কর্মসূচী পিছিয়ে আগামী ১২ জানুয়ারিতে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ তবলীগ জামাতের বিশ্ব এজতেমার প্রথম পর্ব ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১১ জানুয়ারি রবিবার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। এতে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশ নেবেন। এ কারণে সবার সুবিধার্থে এই তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত অনির্ধারিত এই জরুরী বৈঠকে দলের অধিকাংশ নেতাই বিএনপি যে দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচী দিয়েছে, তাতে বিন্দুমাত্র ছাড় না দেয়ার দাবি জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো। এজন্য সরকার ও দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতাদের জেলে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। ক্ষমতায় থেকে আমাকে গ্রেনেড হামলা করে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে গেলেও বেগম আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী সেদিন নিহত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি খুব দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে বলেও দলের শীর্ষ নেতাদের জানান শেখ হাসিনা।

সূত্র জানায়, বিশ্ব এজতেমার মধ্যও অবরোধ কর্মসূচী অব্যাহত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিনিয়র নেতারা। তাঁরা বলেন, বিশ্ব এজতেমায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও যোগ দেবেন। এ কারণে ১০ জানুয়ারির জনসভা এজতেমা শেষ হওয়ার পর করাই ভাল। বৈঠকে তৃণমূল সম্মেলনের সর্বশেষ অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠিত অনির্ধারিত এ বৈঠকে সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্যাহসহ কার্যনির্বাহী সংসদের প্রায় সব সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: