২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঢামেক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা চলছে মুরাদের


স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে ঝলসে গেল গাড়ির হেলপার মুরাদ (২০)। অবরোধে পিকেটারদের দেয়া আগুনে মুরাদের শরীরের প্রায় ৩২ শতাংশ ঝলসে গেছে। বুধবার ভোর ৪টায় যশোরের খাজরা বাসস্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় মুরাদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে বার্ন ইউনিটের এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন আছে মুরাদ।

যশোর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা হোসেন বলেন, মুরাদের গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার মুহাম্মদপুর থানার মৌসা গ্রামে। সে বাসে হেলপারের কাজ করে। দুদিন ধরে অবরোধ থাকায় সে বাড়িতে যেতে পারছিল না। তাই স্ট্যান্ডেই থাকে। গাড়িতে ঘুমায়। বুধবার রাতে খাওয়া-দাওয়া করে ক্লান্ত হয়ে গাড়িতে ঘুমিয়ে গেলে ভোরের দিকে কে বা কারা সেই গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই আগুনে মুরাদের শরীর ঝলসে যায়। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে যশোর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার ডাক্তার তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, মুরাদের বাবা তোরাব হোসেন একজন রিক্সাচালক। ৪ ভাই ১ বোন এর মধ্যে মুরাদ ২য়। তার এই অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। রিক্সাচালক বাবা ছেলের এই অবস্থা দেখে অসুস্থ হযে পড়েছেন। অসুস্থ বাবাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। মুরাদের পাশে আছে তার মা নূরজাহান। ছেলের এই অবস্থার জন্য তিনি চোখের পানি ফেলছেন আর আর্তনাত করছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলের কি অন্যায় ছিল? তাকে কেন এভাবে পুড়িয়ে মারল অবরোধকারীরা। সে তো রাজনীতি করে না। আমরা গরিব মানুষ দিন আনি দিন খাই। এখন কিভাবে ছেলের চিকিৎসার টাকা যোগার করব আমরা। চিকিৎসকরা বলেছেন মুরাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শরীরের ৩২ শতাংশ পুড়ে গেলেও তার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে। তবে আমরা আশা করছি সে সুস্থ হয়ে উঠবে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: