২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নির্বাচন-পরবর্তী তাণ্ডব বর্ষপূর্তি দিনে চার্জশীট অভিযুক্ত ১০০


স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরের অভয়নগর উপজেলার চাপাতলা-মালোপাড়ায় নির্বাচনপরবর্তী তাণ্ডবের বর্ষপূর্তির দিনে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। ওই তা-বের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এক শ’ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ চার্জশীট দাখিল করেছে। সোমবার যশোরের আদালতে মামলার চার্জশীট দাখিল করেছেন সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম।

মালোপাড়ার তা-ব মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মালোপাড়ায় হামলার ঘটনায় যে মামলা করা হয়েছিল তা তদন্ত করে চার্জশীটে ১০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ায় কয়েক শ’ অস্ত্রধারী অতর্কিত হামলা চালায় যশোরের অভয়নগর উপজেলার চাপাতলা-মালোপাড়ায়। হামলাকারীরা ২০/২৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ছাড়াও শতাধিক বাড়িঘরে ভাংচুর এবং ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট করে। পুড়িয়ে দেয় ১০টি বাড়ি। হামলায় আহত অন্তত ২৫ জন। এসময় আতঙ্কিত গ্রামবাসী পার্শ্ববর্তী ভৈরব নদ সাঁতরে ও ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে পার হয়ে দেয়াপাড়া গ্রামের পালপাড়া এলাকার পূজামণ্ডপে আশ্রয় নেন। পরদিন প্রশাসন ও রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃবৃন্দর সহায়তায় গ্রামে ফেরেন তারা। জামায়াত-বিএনপি’র চালানো সেদিনের ওই সহিংসতায় তছনছ হয়েছিল পুরো গ্রাম।

হামলার পর দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষ পাশে দাঁড়ায় তাদের। ছুটে আসেন দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রী-এমপি, দেশী-বিদেশী সংস্থা ছাড়াও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার আদালতে দাখিলকৃত চার্জশীটে ১০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আলোচিত এই মামলার এজাহারে উল্লেখকৃত ৩৯ আসামির মধ্যে ১৬ জনকে মামলা থেকে অব্যহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামে তিন কোটি টাকার ফেরি ধ্বংসের পথে

রাজুমোস্তাফিজ, কুড়িগ্রাম থেকে ॥ সড়ক ও জনপদ বিভাগের অবহেলার কারণে কুড়িগ্রাম শহরের পাশে ধরলা নদী পারাপারে প্রায় ৩ কোটি টাকার ইঞ্জিন চালিত ফেরিটি ধ্বংস হতে চলেছে। ফেরিটির মূল্যবান যন্ত্রাংশ ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গেছে। এর দেখাশুনার কেউ না থাকায় সন্ধ্যার পর এটি মাদকসেবীদের দখলে চলে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত মাদকসেবনসহ অসামাজিক কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার মধ্যে নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ি ও ভূরুঙ্গামারী এই ৩টি উপজেলা ধরলা নদীর ওপারে। এই তিন উপজেলার প্রায় ৭লাখ মানুষের কুড়িগ্রামসহ ঢাকার সাথে যোগাযোগের জন্য নব্বই দশকের প্রথমদিকে কুড়িগ্রামের ধরলানদীর ঘাট এলাকায় ফেরিচলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। ফেরি দিয়ে ভারি যানবাহনসহ মানুষও পারাপার হতে থাকে। জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৩ সালের দিকে ধরলা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হয়। সেতু নির্মিত হওয়ার পর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সরকার এক সময় ঘাটে অবস্থিত পন্টুনটি অন্যত্র সরিয়ে নিলেও ফেরিটি থেকে যায়। ফলে দীর্ঘ ১১ বছরে ফেরিটির মূল্যবান যন্ত্রাংশ ধীরে ধীরে চুরি হতে থাকে। বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এটি এখন ধ্বংসের দারপ্রান্তে। তাছাড়া সন্ধ্যার পর ফেরিটির পাটাতনের ওপর চলে অসামাজিক কাজ ও মাদক সেবন।