২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

৪০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র তেল রফতানিতে


বিশ্ব তেলের বাজার নিয়ে বেশ হৈচৈ হচ্ছে কিছুদিন ধরে। রেকর্ড পরিমাণ তেলের দাম কমে যাওয়া এর কারণ। এখন আবার নতুন করে তেল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুধু আলোচনাই নয়, রীতিমতো মাথাব্যথা শুরু হয়েছে তেল উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশগুলোর। কারণ আমেরিকা। আরব ইসরাইলযুদ্ধের পর আমেরিকা অপরিশোধিত তেল রফতানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং এরপর থেকে নিজেরা তেল রফতানি না করে, মজুদ বৃদ্ধি করছিল। দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর আবারও তেল রফতানির বাজারে প্রবেশ করছে দেশটি। তেলের দাম কমায় এমনিতেই উৎপাদক দেশগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের রফতানির দ্বার উন্মোচন এখন এদের কঠিন প্রতিযোগিতা এবং চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে।

বিগত বেশ কয়েক মাস ধরেই ওবামা প্রশাসনকে স্থানীয় তেল উত্তোলনকারী, বিদেশী ব্যবসায় অংশীদার ও রিপাবলিকানরা তেল রফতানির নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। সেই চাপের মুখে ওবামা প্রশাসন তেল রফতানির নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নাম লেখাল দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটির (বিআইএস) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিছু কোম্পানিকে হালকা কনডেনসেট রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ক্রমান্বয়ে তেল রফতানির পরিমাণ বাড়ানো হবে। এই বিষয়ে নিউইয়র্কে সিটিগ্রুপের কমোডিটি রিসার্চ বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান এডওয়ার্ড মোর্স বলেন, ‘দীর্ঘ প্রত্যাশিত এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হতে থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিপুল তেল রফতানি সম্ভব হবে।’ বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই বছরের শেষ নাগাদ দৈনিক দশ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করতে সক্ষম হবে। এটি দেশটির তেল উৎপাদনকারীদের জন্য সুসংবাদ হলেও তেল উৎপাদনকারী অন্যান্য দেশের জন্য ভীষণ দুঃসংবাদ।

বিশ্ববাজারে নতুন করে তেল যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে এই কারণে। কেননা দেশটি অনেক আগ থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে পনের ডলার কমে তেল রফতানির কথা বলে আসছিল। এমনিতেই তেলের পড়তি দাম, এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের রফতানি বাজারমুখী হওয়া উৎপাদক দেশগুলোকে ভাবিয়েই তুলছে।

অর্থনীতি ডেস্ক