১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঠাকুরগাঁওয়ের বীরাঙ্গনা টেপরি রানীর দিন কাটে অতিকষ্টে


“পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে পাকিস্তানী সেনা ও রাজাকাররা ইচ্ছামতো নির্যাতন করত। সবার কথা চিন্তা করে সব মুখ বুজে সহ্য করেছি। আমাকে মেরে ফেলার জন্য আমি পাকিস্তানী সেনাদের বারবার আকুতি করেছি কিন্তু তারা তা করেনি। আত্মহত্যা করে জীবন বিপন্ন করতে চাইনি।” কথাগুলো বললেন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বলিদ্বারা গ্রামের টেপরি রানী।

“যুদ্ধের কিছুদিন আগে ১৬ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয় শিয়ালডাঙ্গী গ্রামের মাটাং রায়ের সঙ্গে। একাত্তরের মে মাসে রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানী সেনারা প্রথমে তাঁকে ধরে নিয়ে যায় শিয়ালডাঙ্গী ক্যাম্পে। সেখানে তারা তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতনের পর তাঁকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু তখনও তাঁর দুর্বিষহ জীবনের দুর্দশা শেষ হয়নি। মাসখানেক পর ফের তিনি আটক হন এবং মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে ১০-১২ বার শিয়ালডাঙ্গীসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে নিয়ে তাঁকে অসংখ্যবার নির্যাতন করে পাকিস্তানী সেনারা। সেসব নির্যাতনের কথা মনে পড়লে আজও শিউরে উঠি।” তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার পর বলিদ্বারা গ্রামে আবার বসবাস শুরু করি। কিন্তু নির্যাতিত হওয়ায় আমাদের পরিবারকে প্রায় দুই বছর একঘরে করে রাখে স্থানীয় লোকজন। আমাদের সঙ্গে কেউ লেনদেন করত না, কথা পর্যন্ত বলত না। এর মধ্যে ১৯৭৩ সালে আমার স্বামী মাটাং রায় অসুখে মারা যান। তারপর থেকে আমার দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে অতিকষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ছেলে সুধীর ভ্যানচালক।” টেপরি রানীর আকুতি, সুধীরের বড় মেয়ে (তাঁর নাতনি) জনতা রায়কে যেন সরকার একটি সরকারী চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়।’ জনতা রায় এবার রানীশংকৈল ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক আলহাজ ফজলুল করিম বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার জন্য দেশের বীর কন্যারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা তাঁদের সম্মান জানাতে না পারলেও জনগণের মনে তাঁদের স্বীকৃতি সব সময় আছে।

এসএম জসিম উদ্দিন, ঠাকুরগাঁও থেকে