২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

উদ্বোধন অপেক্ষায় ৩ স্থাপনা


ডিএম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ॥ দীর্ঘ সময় ধরে ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ভরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার হয়ে অনেকটা ধুঁকে ধুঁকে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এই অবস্থা হতে আজ অনেকটাই বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। আর এই বেরিয়ে আসার প্রাথমিক সোপান রচনা কিংবা দিকনির্দেশনা দিয়ে পথ দেখিয়েছে জনপ্রিয় মাটি ও মানুষের বর্তমান সরকার। ৯৬ সালে ক্ষমতাসীন হবার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের সীমান্ত ঘেঁষা জেলাটির উন্নয়নে যে ছক তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এঁকেছিল তা বাস্তবায়িত করার আগেই চলে যাবার কারণে আবার পিছিয়ে পড়া শুরু হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার সরকারে আসার সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনা উন্নয়নের বিষয়টিকে মাথায় নিয়ে দেশের পিছিয়ে পড়া অনুন্নত এলাকাগুলো স্বচক্ষে দেখার জন্য বেরিয়ে পড়েন। পরিদর্শন শেষে উন্নয়ন তালিকা তৈরি করে তার মধ্য থেকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে, অগ্রগণ্য ও জরুরী ভেবে প্রতিশ্রুতি দেয়া শুরু করেন। অনুরূপভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে এসে জেলার একেবারে অনুন্নত এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়ন ও আর্থিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঘোষণা দেন দ্বিতীয় মহানন্দা সেতু নির্মাণের। প্রতিশ্রুতির বিষয়টি দীর্ঘ সময় পড়ে থাকা কিংবা ঝুলে যাওয়ার মধ্যে না থেকে দ্রুত বাস্তবায়নে মাঠে নেমে পড়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। আর তাই দ্বিতীয়বার জননেত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে এসে অর্থাৎ ২০১১ সালের ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

কড়া নির্দেশ দেন দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার। অস্বাভাবিক অসম্ভবকে সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এনে তাকে বাস্তবে রূপ দেবার বিষয়টি কোন দিন কেউ স্বপ্নেও ভেবে দেখেননি। কারণ দুর্গম এলাকার মধ্য দিয়ে নদীর ওপর সেতু নির্মাণ একটি অসম্ভব ব্যাপার হয়েছিল হাজার বছর ধরে। দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ, যা ৭টি ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষের জীবনে এনে দেবে ভিন্নমাত্রা।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ঠিকানা খুঁজে পাবে। এর জন্য স্বাধীনতার পর ৪৩ বছর অপেক্ষা করতে হলো। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের এই প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় মহানন্দা সেতুর নির্মাণ কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। শুধুমাত্র সংযোগ সড়কের কাজ কিছুটা বাকি থাকলেও যানবাহন চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। শহরতলীর নতুন হাটসংলগ্ন সাহেবের ঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন এই সেতু পদ্মা, মহানন্দা ও পাগলা নদীর চরবেষ্টিত ইসলামপুর, দেবীনগর, চরবাগডাঙ্গা, সুন্দরপুর, শাহজাহানপুর, আলাতুলি ও পদ্মা পাড়ের নারায়ণপুর ও পাকা ইউনিয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ সাধন করে জেলা শহরে আসার দ্রুত সুযোগ সৃষ্টি করবে। পদ্মার ভাঙ্গন হতে এসব ইউনিয়ন রক্ষায় কয়েকশ’ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে ও হচ্ছে। বর্তমানে আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন রক্ষায় পদ্মাপাড় বাঁধানোর জন্য ১২টি গ্রুপ ১৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে টেন্ডার আহ্বান করেছে। ৫৪৬ দশমিক ৬০ মিটার লম্বা ও ৮ দশমিক ১০ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় মহানন্দা সেতুতে উঠার আগে দুই দিকেই সংযোগ সড়কের মধ্যে মহানন্দার ছেড়ে যাওয়া খালের ওপর আরও দুটি ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে সংযোগ সেতু, নির্মাণ করতে হয়েছে। তারপরে দেখা মিলবে মূল সেতুর। সেতুর নকশা অনুযায়ী রয়েছে ৪২ মিটার দৈর্ঘ্যরে ১৩টি স্প্যান ও ১৬৫টি পাইল। মোট ব্যয় ৫১ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

অপর দৃশ্যমান, একাধিক বহুতল ভবন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত যুব উন্নয়ন চত্বর। শাহ নিয়ামতুল্লাহ (রাঃ) কলেজ মোড় হয়ে শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর বীরশেষ্ঠ সেতুর দিকে এগুলে পিটিআই ছেড়ে যাওয়া মাত্র বাম ধারে আকাশ ছোঁয়া একাধিক বিশাল বিশাল ভবন নজর কেড়ে নিয়ে। জুড়িয়ে যায় চোখ। ৪ একর জমির ওপর প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এইসব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন চত্বরের সম্মুখের অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও মার্কেট উচ্ছেদের ফলে খুবই নজরকাড়া বহুতলের স্থাপনাগুলো দেখা যায়। নির্মাণ ও ফিনিশিং একেবারে শেষ পর্যায়ে। ৯৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

বিশাল চত্বরের যুব উন্নয়ন কর্মকা- শুরু হলে এখানে ছয় মাস, তিন মাস ও এক মাসের একই সঙ্গে ২২৫ জন ট্রেনিং নিতে পারে। এইসব দক্ষ কারিগররা বিদেশ যাবার ব্যাপারে পর্যান্ত পরিমাণে সুযোগ পাবে। এখানকার ৭টি ট্রেডের মধ্যে পোশাক, মৎস্য, ইলেকট্রিক, কম্পিউটার, মডার্ণ অফিস ম্যানেজমেন্ট ও রিফ্রিজারেটরের ওপর ট্রেনিং নিয়ে তারা দক্ষ হবে। এ ছাড়াও আবাসিকভাবে একশ’ যুবক ট্রেনিং নেবার সুযোগ পাবে। এদের থাকা খাওয়া ফ্রি, অর্থাৎ সরকার বহন করবে। এরা ৭৫ দিনের ট্রেনিং নিয়ে দক্ষ-কারিগরে রূপান্তরিত হবে। সব মিলিয়ে পুরো বছরে দেড় থেকে দুই হাজার অদক্ষ যুবক ৭টি ট্রেডে ট্রেনিং পেয়ে দক্ষ শ্রমিকে রূপান্তর হলে বিদেশের মাটিতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে রেমিটেন্স বৃদ্ধি করবে। এই ধরনের একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের অভাব বহুদিন ধরে অনুভব করে আসছিল এই জেলার অর্ধ শিক্ষিত বেকার যুবক। অপর একটি দৃশ্যমান বিশাল ভবন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন। স্থান সঙ্কুলান না হবার কারণে একাধিক কোর্ট পরিচালনা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ছিল স্থানীয় বিচার বিভাগ।