১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভয়ঙ্কর ইবোলা ভাইরাস


ইবোলা ভাইরাস। ২০১৪ সালের শেষ দিকে বিশ্বব্যাপী এটি ছিল এক আতঙ্কের নাম। এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ইবোলা ভাইরাসকে বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে বিমানবন্দরসহ সম্ভাব্য সব স্থানে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়।

ইবোলা একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি বিশ্বে ইবোলা ভাইরাস ডিজিস বা ইবোলা হেমোরেজিক ফিভার নামে পরিচিত। পাঁচটি প্রজাতির মধ্যে তিনটি মানবদেহের জন্য বেশি মারাত্মক। সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে জায়ার ইবোলা ভাইরাস। চিকিৎসকরা মনে করেন, ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত পশু থেকে এই রোগ প্রথম মানবদেহে সংক্রমিত হয়। উল্লেখ্য, ইবোলা একটি নদীর নাম, যা বর্তমান কঙ্গোতে অবস্থিত (পূর্বে এটি জায়ারের অংশ ছিল)। এই রোগের প্রথম ভাইরাস শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে। ভ্যাকসিন এবং ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় এই রোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হার অত্যাধিক। অতীতে বিভিন্ন সময়ে এই রোগ বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলে দেখা দেয়। ২০১৪ সালে এই রোগ আফ্রিকার গিনি, সিয়েরালিওন এবং লাইবেরিয়াতে মহামারী আকারে দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত ১২০১ জন চিহ্নিত রোগীর মধ্যে ৬৭২ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। ইবোলা চিকিৎসায় ব্যাপকসংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স পাঠায় কিউবা সরকার। যা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এখনও ইবোলা প্রতিরোধী ওষুধ বা টিকা বাজারে আসেনি।

ফোনে আড়িপাতা

২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো ফোনে আড়িপাতা। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ৩৫ জন নেতার ফোনে আড়ি পেতেছিল বলে অভিযোগ করেন সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন। এর পরই বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের পর মার্কিন মিত্ররা ক্ষুব্ধ হয় এবং বিভিন্ন দেশে ওবামা প্রশাসনের কূটনীতিকদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার কর্মী ও আইনজীবীরাও ক্ষুব্ধ হন এ কারণে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফোনে আড়িপাতা ও ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক সমস্যা নিরসনে বহুল প্রত্যাশিত গোয়েন্দা সংস্থার আইনের সংস্কার করার ঘোষণা দেন।

ফোনে আড়িপাতার ঘটনা ফাঁসের পরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন এ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন। এই কারণে তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এমনকি তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চেয়েছিল মার্কিন সরকার। বর্তমানে সেøাডেন রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে। কিছুদিন আগে এক সাক্ষাতকারে স্নোডেন জানিয়েছেন, ১৯১৮ সালের গুপ্তচরবৃত্তি বিষয়ক আইনের আওতায় বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য দেশে ফেরার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই। তাঁর ভাষায়, ‘প্রেসিডেন্ট বলতে পারেন, এসে বিচারের মুখোমুখি হও, কিন্তু এটা তো সবাই জানে, বিচারটি হবে সাজানো একটা নাটক।