১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

হিউজেস-শোক, অবিশ্বাস্য রোহিত ও টি২০-তে শ্রীলঙ্কার বিশ্বজয়


দিন যায় ক্ষণ যায় সময় কাহারো নয়। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে শেষ হয়ে গেল আরও একটি বছর। জীবন-সংস্কৃতির অন্য অঙ্গনের মতো বিশ্ব ক্রিকেটও রেখে গেল অনেক অনেক স্মৃতি। ২০১৪ সালে যেমন রয়েছে মাত্র ২৫ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজেসের অকাল মৃত্যু, তেমনি আছে স্মরণীয় সব ঘটনাও। বছরটা শুরুই হয়েছিল কোরি এ্যান্ডরসনের দ্রততম সেঞ্চুরির রেকর্ড দিয়ে। ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত আড়াই শ’ রানের ইনিংস খেলে তাতে বাড়তি রং চড়িয়েছেন রোহিত শর্মা। শ্রীলঙ্কার পিঠেপিঠি এশিয়া কাপ ও টি২০ বিশ্বকাপ জয়, আছে ব্যাটে-বলে কুমার সাঙ্গাকারা ও মিচেল জনসনের অবিশ্বাস্য পারফর্মেন্স। আবার বিদায়ী বছরে সাঈদ আজমলের নিষেধাজ্ঞা ও মাহেলা জয়াবর্ধনের টেস্ট-অবরের কথা ভেবে মন খারাপ হবে ভক্তদের।

কেবল ক্রিকেটই নয়, বেদনায় গোটা বিশ্ব-বিবেক নাড়িয়ে দেয়ার ঘটনা হিউজেসের অকাল মৃত্যু। ২৫ নবেম্বর স্থানীয় শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে পেসার সিন এ্যাবটের বাউন্সারটা হুক করতে গিয়ে চোখ সরিয়ে নিয়েছিলেন বা-হাতি হিউজেস। মাথা ঘুড়ে গিয়েছিল পেছন দিকে। লাফিয়ে ওঠা বল এসে লাগে ঠিক হেলমেটের নিচে, কানের পেছন দিকে। কয়েক সেকেন্ড হাঁটুতে দু’হাত রেখে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে থাকার পর মুখ থুবড়ে পড়ে যান সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পিচের ওপর। মিনিট পনেরর মধ্যে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপতালে। মাথায় অস্ত্রপচার শেষে রাখা হয় সেন্ট ভিন্টসেন্ট হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (কোমা) লাইফ সাপোর্টে। দুদিন ধরে অগণিত ক্রিকেটপ্রেমীর প্রার্থনা উপেক্ষা করে হিউজেসকে পরোলোকে তুলে নেন বিধাতা।

‘এ প্লেয়ার অব স্টাইল, এ প্লেয়ার অব ক্লাস... এ ট্রু লিজেন্ড ইন দ্য হিস্টোরি অব ক্রিকেট, স্যালুট মাহেলা জয়াবর্ধনে’Ñ ১৪ আগস্ট’২০১৪ বিদায়ী টেস্টের সময় কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডের প্রধান ফটকের পাশে ছবি সম্বলিত বিলবোর্ডে ভক্তদের শুভেচ্ছা বানি এটি। এতটুকো কি বাড়িয়ে লেখা ছিল? মাহেলা জয়াবর্ধনেকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতমসেরা ব্যাটসম্যান বললে অত্যুক্তি হবে না। ছোট্ট তথ্যÑ ক্রিকেটের প্রায় দেড় শ’ বছরের ইতিহাসে যে পাঁচজন ব্যাটসম্যান ওয়ানডে ও টেস্ট দুই ঘারনায় ১১ হাজারের ওপরে রান করেছেন, সাবেক লঙ্কান সেনাপতি তাদেরই একজন। সঙ্গে ‘স্পোর্টিং স্পিরিট’ খেলোয়াড়ি মনোভাবেও আধুনিক ক্রিকেটের উদাহরণ তিনি। ১৪৯টি টেস্ট খেলে ব্যাট-প্যাড তুলে রাখলেন মাহেলা। ২৫২ ইনিংসে মোট রান ১১,৮১৪। ৩৪টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ক্যারিয়ারে হাফ সেঞ্চুরি সংখ্যা সমান ৫০টি। বছরের অন্যতম আলোচিত পারফর্মেন্স ওয়ানডেতে রোহিত শর্মার অবিশ্বাস্য ডাবল সেঞ্চুরি। ১৩ নবেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৪ রানের অতিমানবীয় ইনংিস খেলে নতুন রেকর্ড গড়েন ২৭ বছর বয়সী ভারতীয় ব্যাটসম্যান শচীন ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি (২০০*) হাকিয়েছিলেন ২০১০ সালে, গোয়ালিয়রে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ২০১১Ñএর ডিসেম্বরে ইন্দোরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিরেন্দর শেবাগ করেছিরেন ২১৯। ২০১৩ সালের নবেম্বরে ২০৯ রানের পথে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এ তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন রোহিত। ঠিক এক বছর পর এবার সেটিকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান তিনি। ১৭৩ বলে ২৬৪ রানের পথে ৩৩টি চার ও ৯টি ছক্কা হাকান ডানহাতি ওপেনার। প্রতিপক্ষ লঙ্কান ক্রিকেটারদের নয়, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে গ্যালারির দর্শকদের ফিল্ডার বানিয়ে নিয়েছিলেন অবিশ্বাস্য রোহিত!

আইসিসির বৈষয়িক টুর্নামেন্টগুলোতে শ্রীলঙ্কা এক হতভাগা নাম! সেই ১৯৯৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর একাধিকবার ফাইনালে উঠেও অল্পের জন্য ট্রফি পুনরুদ্ধার হয়নি। গতবার ফাইনালে হারে ভারতের কাছে। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে! এমনকি ঘরের মটিতে ২০১২ টি২০ বিশ্বকাপেও ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারে তারা! এত সব দুঃখের ক্ষতে ২০১৪ সালটা লঙ্কানদের জন্য কিছুটা শান্ত¡নার প্রলেপ। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ও পিঠেপিঠি টি২০ বিশ্বকাপ জয় করে দ্বীপদেশটি। যা আসন্ন অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। এই বিশ্বকাপ খেলেই ওয়ানডে থেকে বিদায় নেবেন দুই তারকা কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। সুতরাং টি২০র পর কিংবদন্তিতুল্য দুই সতীর্থকে ওয়ানডে বিশ্বকাপটাও উপহার দিতে চাইবে ম্যাথুস ও তার দল।

আহ্ কী সাঙ্গাকারার ব্যাটিং, কি ওয়ানডে-কি টেস্টে? ব্যাট হাতে রানের ফল্গুধরা বইয়ে দিয়েছেন আধুনিক ক্রিকেটের সুপার হিরো। ১৬ ডিসেম্বর কলম্বোতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাটিতে জীবনের শেষ ওয়ানডে ইনিংসে করেছেন ৩৩, তাতে বছরের কীর্তি ম্লান হয়নি এতটুকো। এ নিয়ে ২০১৪ সালে ওয়ানডেতে তার মোট রান এখন ১২৫৬। সেঞ্চুরি ৪ ও হাফ সেঞ্চুরি ৮টি, গড় ৫০.২৪! কেবল ওয়ানডে নয়, টেস্টেও চলতি বছরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাঙ্গাকারা। আভিজাত্যের সাদা পোশাকে করেছেন ১৪৯৩ রান। সেঞ্চুরি ৪ ও হাফ সেঞ্চুরি ৯টি, গড় ৭১। ক্রিকেট ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে একই বছর একইসঙ্গে টেস্ট ও ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের অনন্য কীর্তি স্থাপন করেন বাঁ-হাতি এই উইলোবাজ। আগের চারজন হচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার ভিব রিচার্ডস (১৯৭৬), ব্রায়ান লারা (১৯৯৫), অস্ট্রেলিয়ার গ্রেগ চ্যাপেল (১৯৭৭) ও রিকি পন্টিং (২০০৫)।