২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৭ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

তাত্ত্বিকভাবে সফল বছর পার করল পুুঁজিবাজার


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারের ইতিহাসে আলোচিত একটি বছর পার করেছে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ। তাত্ত্বিকভাবে বছরটি বাজারের জন্য ইতিবাচক। যদিও বছর শেষে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের পোর্টফলিও বা পত্রকোষে তেমন আহামরি সুবিধা করতে পারেনি। তবে ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন, সংশোধিত সূচক বা শরিয়াহ ভিত্তিক সূচক চালু করে স্টক এক্সচেঞ্জ মাইফলক গড়েছে। একইভাবে বছরের শেষের দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নতুন স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থা চালু করেছে, তার ফল এখনও ভোগ করতে পারছে না বিনিয়োগকারীরা। উল্টো ব্যবহার না জানায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিনই কমছে লেনদেন ও সূচক।

অন্যদিকে স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা পৃথককরণের (ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন) পর পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে অনেক গঠনমূলক উদ্যোগই নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জ। হাতে নেয়া যেসব উদ্যোগ আগামীতে বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেগুলো হলো : ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট চূড়ান্ত অনুমোদন, বিনিয়োগকারীদের ফোনে এসএমএস দিয়ে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সেবা দেয়া, স্টক এক্সচেঞ্জের খসড়া লিস্টিং রেগুলেশন যাচাই-বাছাই ও সংশোধন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটি সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রণয়ন, ওটিসি কোম্পানিকে মূল মার্কটে ফিরিয়ে আনতে নীতিমালা প্রণয়ন, ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে নতুন আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে চালু করা, বাংলাদেশ-চায়না-ইন্ডিয়া-মায়ানমার মিলে চীনে ‘প্যান এশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জ’ আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জ গঠন, পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনর্অর্থায়ন তহবিল ৯০০ কোটি টাকা বন্টন, ডেরিভিটিভস মার্কেট, ক্লিয়ারিং করপোরেশন ও কমোডিটি মার্কেট গঠন।

জুন মাসে চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য দুটি প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এর একটি হচ্ছে, ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের ৫ বছরের কর অব্যাহতি এবং অপরটি লভ্যাংশ আয়ের করমুক্ত সীমা ১৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা।

মার্চ মাসের নতুন স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ব্যবস্থা চালু করতে ম্যাচিং ইঞ্জিনের জন্য নাসডাক ওএমএক্স ও অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের জন্য ফ্লেক্সট্রেড সিস্টেমসের সঙ্গে চুক্তি করে ডিএসই। এ মাসে গ্লোব ফাইন্যান্স এ্যান্ড ক্যাপিটাল ও বিরালা ক্যাপিটাল এ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড নামে এ দুই বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ডিএসইর পরিদর্শন করে। আর বিনিয়োগকারীদের জন্য পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড সিকিউরিটিজ এ্যানালাইসিস কর্মশালার আয়োজন করে ডিএসই।

ফেব্রুয়ারিতে ডিএসইর ওয়েবসাইটে বাংলা সংস্করণ চালু করা হয়। এ মাসেই ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন পরবর্তী ১২ সদস্যের ডিএসইর নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। এর আগে স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে থেকে বিচারপতি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান মিয়াকে ডিএসইর চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। আর ডিএসইর পরিচালক নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে চারজন ট্রেকহোল্ডার নির্বাচন করা হয়। একইভাবে সিএসইর পরিচালক নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে চারজন ট্রেকহোল্ডার নির্বাচন করা হয়। ওই দিনই বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করে স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্যে থেকে ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদকে সিএসইর চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়।