১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মিয়ানমারে অর্থবহ সংস্কারে পশ্চিমা সহায়তা চাইলেন সুচি


মিয়ানমারের প্রধান বিরোধীদলীয় নেত্রী আউং সান সুচি বলেছেন, তার দেশের ওপর নতুন করে নিষেজ্ঞা আরোপ না করে সেদেশে অর্থবহ সংস্কারের জন্য পশ্চিমাদের উচিত তার দেশের সরকারকে উৎসাহিত করা এবং আরও সহায়তা দেয়া। শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে বিবিসি রেডিও ফোর এসের টুডে অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ৬৬ বছর বয়সী নোবেল জয়ী এই নেত্রী। এ সময় মিয়ানমারের পুরাতন নাম ‘বার্মা’ শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি। সুচি বলেন, বিশ্ব সত্যিকার অর্থে তার দেশের সংস্কারের বিষয়টি ভুলে গেছে। কিন্তু বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। আমার মনে হয়, পশ্চিমা বিশ্ব এখনও চায়, মিয়ানমার শেষ পর্যন্ত সুখী হোক। এ সময় তিনি বলেন, আগামীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তার দেশের সংবিধানের সংশোধন দরকার।

মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবনের প্রায় দুই দশক গৃহবন্দী অবস্থায় কাটিয়েছেন সুচি। বর্তমানে মিয়ানমারের সংবিধানে এক নতুন সংযোজনে বলা হয়েছে, কোনও প্রার্থীর স্বামী অথবা সন্তান বিদেশী নাগরিক হলে প্রেসিডেন্ট পদে তিনি লড়তে পারবেন না। সুচির প্রয়াত স্বামী এবং দুই সন্তান ব্রিটিশ নাগরিক। ২০১৫ সালে মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আউং সান সুচি বলেন, দেশের বেশিরভাগ লোক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিবর্তনের স্বার্থে প্রেসিডেন্ট পদে আমাকে দেখতে চায়। এ সময় মিয়ানমারের সংবিধান সংশোধন বিষয়ে তিনি বলেন, আগে হোক আর পরেই হোক আমরা মনে করি সঠিক পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধন করা দরকার। সুচি বলেন, আমাদের বর্তমান তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর জনগণের প্রভাব আছে বলেও আমি মনে করি। সুচি বলেন, আমরা পেছনের দিকে তাকাতে চাই না। আমি সামনের দিকে তাকাতে পছন্দ করি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের উপনির্বাচনে সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল বিজয় পায়। অবশ্য ২০১০ সালের নির্বাচনকে বেআইনী আখ্যা দিয়ে এতে সুুচির দল অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে। মিয়ানমারে স্বাধীনতার নায়ক জেনারেল আউং সানের মেয়ে সুচি। ১৯৪৭ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হন এই জেনারেল। উল্লেখ্য, গত মাসে মিয়ানমার সফরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে সুচির সামনে যে আইন দাঁড় করানো হয়েছে তা অর্থহীন। -বিবিসি