১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও রশিদ আজও তালিকার বাইরে


স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও সরকারী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি মুক্তিযোদ্ধা আ. রশিদ (৭০)। বয়সের ভাবে ন্যূব্জ বীর এ মুক্তিযোদ্ধার এখন জীবন চলে ভিক্ষার টাকায়। অভাব অনটনের সংসারে বিধবা এক মেয়ে আর নাতি। স্ত্রী গত হয়েছেন প্রায় ১০ বছর। মাঝে টুকটাক কিছু কাজ করলেও বয়সের কারণে এখন তাও সম্ভব হচ্ছে না। জীবনযুদ্ধে পরাজিত এই মুক্তিযোদ্ধা সংসার চালাতে তাই বাধ্য হয়ে গত এক মাস যাবত কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বরে ভিক্ষা করা শুরু করেছেন। আ. রশিদের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ইউনিয়নের আমড়াগাছিয়া গ্রামে। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে নববধূকে বাড়িতে রেখেই চলে যান খুলনা। সেখান থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাসনাবাদ চব্বিশ-পরগনায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। ফিরে এসে খুলনায় মেজর জলিলের নেতৃত্বাধীন ৯নং সেক্টরে যোগ দেন। তার দায়িত্ব ছিল খুলনা, সুন্দরবন দিয়ে নিরাপদে সংখ্যালঘুদের পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছে দেয়া। খুলনা থেকে নৌকাযোগে পশ্চিমবঙ্গে যাওয়ার সময় একদিন হানাদার বাহিনীর মুখোমুখি পড়ে যান। গুলিবিদ্ধ হন ডান ঊরুতে। কোন রকমে ওই যাত্রা বেঁচে যান তিনি। আ. রশিদ বলেন, ‘গুলি খাইয়া হ্যাদিন মইররা গেলে ভাল হইতে। বুড়া বয়সে এতো কষ্ট করা লাগতো না। মুক্তিযুদ্ধ করছি। দ্যাশ স্বাধীন হইছে। স্বাধীন দ্যাশে ভিক্ষা কইরা খাই।’ তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘দ্যাশ স্বাধীন ওইলে ভাল থাকমু, এই আশায় যুদ্ধ করছি। এহন দ্যাহি রাজাকারগো গাড়িতে দ্যাশের পতাকা। আর আমরা মুক্তিযুদ্ধ কইরা ভিক্ষা কইররা খাই।

Ñসালাউদ্দিন মিয়া, কেরানীগঞ্জ থেকে