২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিএনপির প্রতিবেদন সুন্দরবন বিপর্যয়ের জন্য দায়ী সরকারের উদাসীনতা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারের উদাসীনতার কারণেই সুন্দরবনে শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এ দুর্ঘটনা মূলত মানবসৃষ্ট। পাথর ও বালুবাহী জাহাজে করে এ নদী দিয়ে তেল পরিবহন করা হতো। অথচ ওই জাহাজের কোন ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল না। একটি সাধারণ কার্গোকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে রূপান্তরিত করে অবৈধভাবে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ রুটে যাতায়াত করত। এটি তেলবহনেও ছিল অনুপযুক্ত। এছাড়াও ঘষিয়াখালী-মংলা চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শ্যালা নদীতে বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার করা এবং নদীতে বাঁধ ও চিংড়ির ঘেরও এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার সুন্দরবনে শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারডুবির ঘটনায় বিএনপির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান হফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারের এক মন্ত্রীর শ্যালক তেলবাহী ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ এর মালিক। অথচ এই জাহাজটি ছিল পাথর ও বালু টানা জাহাজ। এটির কোন ফিটনেস সার্টিফিকেট ছিল না। একটি সাধারণ কার্গো জাহাজকে তেলের ট্যাঙ্কারে রূপান্তর করা হয়েছে। যেটি তেল পরিবহনে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ছিল। এটি প্রায়শই খুলনা থেকে তেল নিয়ে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধ রুটে অবৈধভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিত। এক্ষেত্রে সরকারের গাফলতিই এ দুর্ঘটনার কারণ। তিনি বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১শ’ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করা হলেও অনেকের ধারণা এ ক্ষতির পরিমাণ ৫শ’ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

এ ঘটনাতে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ আখ্যা দিতে বলেন, দেশে আইনের শাসন না থাকলে এ ধরনের দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। দুঃশাসনের অবসান না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ আরও ঘটতে পারে। এর পেছনে অপরাজনীতি রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তেল অপসারণে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে শ্যালা নদী, পশুর নদী ও বলেশ্বর নদীসহ অসংখ্য খালের ভেতরে তেল ঢুকে বৃক্ষরাজি, মৎস্য, সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ইরাবতী ডলফিনের অভয়ারণ্য হুমকির মুখে পড়েছে। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ মানুষের জীব জীবিকার ওপর এক দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকার অদক্ষতার সমালোচনা করে বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় সরকার উদাসীন। জাহাজডুবির ঘটনায় বন বিভাগ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতমুখী বক্তব্যের ফলে সরকারের বিভিন্ন বিভাগের চরম দক্ষতা ও পারস্পরিক অসহযোগিতা দৃশ্যমান হয়েছে। ট্যাঙ্কারডুবির ৪৮ ঘণ্টা পরও সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধার কার্যক্রম ও তেল অপসারণে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ২০১১ সালে এপ্রিল মাসে পলি পড়ে ঘষিয়াখালী-মংলা আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি পুনরায় এর খনন কাজ শুরু হয়। ১ কোটি ঘনমিটার মাটি কাটার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করা হলেও ৬ মাসে মাত্র ৭ লাখ ঘনমিটার মাটি কাটা হয়েছে। অথচ সুন্দরবনে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য এ চ্যানেলের নাব্য ফিরিয়ে আনা জরুরী।

সুন্দরবনের রামপাল তাপবিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনের সমালোচনা করে বলেন, এটি হওয়ার কথা ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয় বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের ছাড়পত্র দেয়নি। কিন্তু ভারত সেখানে না করে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। রামপালে বিদ্যুতকেন্দ্র হলে বাংলাদেশ নিজেই বিশ্বে জলবায়ু দূষণকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত হবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গ্রীন ফান্ডের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা হারাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে ৬টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: