১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আলু চাষে নারী শ্রমিক


আলু চাষে নারী শ্রমিক

রাসমণি, গীতা, নির্মলা, কাজলী, ছালেহা, রহিমা, সালমা, মালতী, মায়া ও বিথী ওরা গায়ের গরিব পরিবারের মাথায় ঘোমটা টানা নারী ঘরসংসার আর স্বামী-সন্তানদের দেখাশোনাতেই কাটে দিন। কিন্তু এখন সময় পাল্টাচ্ছে। সময় ওদের টেনে এনেছে মাঠে। আরেকটু ভালো থাকা। সংসারে একটু সচ্ছলতার আশায় ওরা নেমে পড়ছে ক্ষেতখামারে। ওরা কাজ নিয়েছে কাটা বীজআলু ক্ষেতে লাগানোর কাজ। মজুরি খুব বেশি নয়। তবুও এতেই ওরা খুশি। মাত্র কয়েকদিন কাজ করে যা মিলবে তাই লাভ। মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার আলুক্ষেতে এখন এভাবেই শতশত নারী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

গত কয়েক বছর উপজেলার কদমবাড়ী, রাজৈর, আমগ্রাম, বাজিতপুর, পাইকপাড়া, ইশিবপুর, বদরপাশা, খালিয়া, কবিরাজপুরসহ অন্যান্য ইউনিয়নে শুরু হয় আলু চাষ। অনেক গ্রামেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চলছে আলু চাষ। একটি সূত্র জানায়, উপজেলায় প্রায় ২ হাজার একরেরও বেশি জমিতে আলু চাষ হবে। কয়েকটি আলুক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে আলু লাগানোর কাজে পুরুষের পাশাপাশি গাঁয়ের নারীরাও সমনতালে কাজ করছে। যেসব নারীরা ঘরের চৌহদ্দির ভেতরে দিন কাটায় তাদের অনেকেই নেমে পড়ছে আলুক্ষেতে। এসব কাজে আগে এ অঞ্চলের নারীরা সরাসরি কৃষিকাজে জড়িত ছিল না। আলু লাগানোর কাজে ব্যস্ত এমন কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল তাদের এই মাঠে কাজে আসার নেপথ্যের কথা।

খালিয়া গ্রামের সুশান্ত বিশ্বাসের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী কাজলী জানান, ‘আগে ঘরে বইয়া থাকতাম। এ্যাহোন আলু চাষ বাইড়া গ্যাছে। আমরাও কাম পাইছি। আলুর চাষ না হইলি ঘরে বইয়া থাকতে হইত।’ তিনি আরও জানান, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত আলু কেটে কাটা আলু ও ১৫০ টাকা পান। পরিশ্রমের তুলনায় মজুরি কম কিন্তু এ নিয়ে তার কোন আফসোস নেই। এতে তার সংসারের চাহিদা মেটে। আবার কিছু বিক্রি করেও হাতে পয়সা আসে। রাজৈর উপজেলায় যেসব এলাকয় আলু চাষ হচ্ছে তার সব মাঠেই এখন কর্মজীবী নারীদের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠেছে। নারীদের এমন কর্মচাঞ্চল্য পরিবারের জন্য নিয়ে আসবে সচ্ছলতা। খুশি আলু চাষীরাও ক্ষেতের কাজে নারীরা এগিয়ে এলে আলু চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এমনটা মনে করে তারা।

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তী