১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাফল্যের বৃত্ত পূরণের সুযোগ শেখ জামালের


মো: মামুন রশীদ ॥ আন্তর্জাতিক কিংবা ঘরোয়া উভয় আসরে শেষ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব এ বছর শুধু সাফল্যই দেখেছে। ঘরোয়া আসরের দুটি মর্যাদার শিরোপা উঠেছে শেখ জামাল শিবিরে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী পেশাদার আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ও ফেডারেশন কাপের ট্রফি জয় করেই ক্ষান্ত হয়নি শেখ জামাল। দেশের বাইরে থেকে নিজেদের জন্য এবং দেশের জন্যও গর্ব করার মতো সাফল্য বয়ে এনেছে। ভারতের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী আসর আইএফএ শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে অন্যতম ফেবারিট থাকলেও শেষ পর্যন্ত রানার্সআপ, কিন্তু ভুটানে আয়োজিত কিংস কাপে আর ভুল করেনি শেখ জামাল। এবার শিরোপা নিয়ে এসেছে। এবার আরেকটি চ্যালেঞ্জ শেখ জামালের সামনে। সুযোগ আরেকটি গর্ব নিয়ে বছর শেষ করার। সাফল্যের বৃত্তটা পূর্ণ করেই ‘নববর্ষ’ উদ্যাপনের উপলক্ষটা পেতে পারে তারা। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই ঢাকায় পা রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কে লীগ’ স্বনামধন্য ক্লাব বুসান আই পার্ক। তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ সদস্যের দল নিয়ে ঢাকায় এসেছে বুসান। শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তাদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হবে শেখ জামাল। আর এ ম্যাচে জিততে পারলেই সাফল্যের বৃত্তটা পূরণ হবে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নদের।

শেখ জামালের জন্য দারুণ এক সুখবর এসেছে গত বুধবারই। কোচ মারুফুল হকের ওপর থেকে উঠে গেছে নিষেধাজ্ঞা। দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হলেও নিষেধাজ্ঞা থাকলে বুসানের বিরুদ্ধে দলের ডাগআউটে থাকতে পারতেন না কোচ মারুফ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পেশাদার ফুটবল লীগ কমিটি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করার অপরাধে গত আগস্টে তাঁকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল বাফুফে। পরে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় মারুফুল হক আপীল করেন। সেই আপীলের রায়ে বাফুফে ডিসিপ্লিনারি কমিটি এক বছরের বহিষ্কারাদেশ কমিয়ে ছয় মাস করে। সেই ছয় মাসের চার মাস পূর্ণ হয় বুধবার, সেটা বহাল থাকলে বুসানের বিরুদ্ধে শনিবারের ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে থাকতে পারতেন না। এ কারণে আগেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছিলেন মারুফ। এরপর তাঁর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে, এখন পুরোপুরি মুক্ত মারুফ। এবার তাঁর মিশন দলকে বছরের শেষ সাফল্য এনে দেয়া। আর এতে করে দলের খেলোয়াড়দের ওপর থেকেও একটা চাপ কেটে যাবে। নিয়মিত কোচ থাকতে পারবেন এবং বুসানের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলার সময় তাঁর উপস্থিতি দলের সবার জন্যই হবে বড় অনুপ্রেরণার। দেশের মধ্যে দলকে দুটি বড় শিরোপা পাইয়ে দিয়েছেন মারুফ। আবার দেশের বাইরেও শেখ জামাল সাফল্য পেয়েছে মারুফের হাত ধরে। এরচেয়েও বড় সুখবর অধিনায়ক মামুনুল ইসলামও দলে ফিরে যোগ দিয়েছেন অনুশীলনে। ফলে শক্তিমত্তা বেড়েছে আগের চেয়ে। ইন্ডিয়ান সুপার লীগে (আইএসএল) এ্যাটলেটিকো ডি মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি থাকার কারণে তিনি এতদিন কলকাতায় অবস্থান করেছেন সেই দলটির সঙ্গে। চুক্তির শর্ত অনুসারে খেলতে পারেননি কিংস কাপে। এবার তিনি ফেরায় শেখ জামাল নিঃসন্দেহে আগের চেয়ে আরও বেশি উজ্জীবিত হবে এবং বর্ধিত শক্তি নিয়েই নামতে পারবে।

ভারতের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল আসর আইএফএ শিল্ডে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে মারুফের দল শেখ জামাল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানার্সআপ হয়েছে দলটি। তবে সেটা ছিল অনেক বড় গর্বের প্রাপ্তি। সে কারণেই শেষ জামাল যেন আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল। তারই ফলশ্রুতিতে ভুটানে কিংস কাপে শিরোপা জিতে এসেছে শেষ জামাল। এবার ঘরের মাঠে বিদেশী প্রতিপক্ষ। তাই জয়ের প্রত্যাশা নিয়েই নামবে শেখ জামাল। বছরটা শেষ করতে হবে সাফল্য দিয়ে। শেখ জামালের ম্যাচ হলেও আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কারণে আয়োজনের দায়িত্ব পালন করছে বাফুফে। মঙ্গলবার থেকেই টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। এবার বুসান আই পার্কের বিরুদ্ধে জয়ের মিশন। তবে কাজটা খুব বেশি সহজ হবে না। সম্প্রতি বছরগুলোয় কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী এ ক্লাবটি ঘরোয়া আসরে তেমন বড় কোন সাফল্য পায়নি। কে লীগ ক্ল্যাসিকে চারবার চ্যাম্পিয়ন আর তিনবার রানার্সআপ হয়েছে দলটি। লীগ কাপে তিনবার চ্যাম্পিয়ন ও পাঁচবার রানার্সআপ হতে পেরেছে তারা। একবার করে এফএ কাপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয় বুসান আই পার্ক। এতকিছুর মধ্যে সর্বশেষ সাফল্য বলতে ২০১১ সালে লীগ কাপে রানার্সআপ। আর সর্বশেষ ঘরোয়া আসর জয় ২০০৪ সালে এফএ কাপ।

অবশ্য সম্প্রতি কোচ ইয়ুন সাং হিও’র অধীনে আবারও যেন পুরনো রং ফিরে পাচ্ছে বুসান আই পার্ক। গত দুই বছরে দলকে বেশ ভালভাবেই গুছিয়েছেন ৫২ বছর বয়সী হিও। সেটার ছাপ আন্তর্জাতিক আসর লুনার নিউইয়ার কাপে দেখা গেছে গত বছর বুসান শিরোপা জেতার পর। এছাড়া ২০১২ সালে আরেকটি আন্তর্জাতিক ফুটবল আসর হাওয়াইয়ান আইল্যান্ডস আমন্ত্রণমূলক আসরেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বুসানের এ ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। তাই শেখ জামালকে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হবে। শনিবারই ফয়সালা হবে শেষ পর্যন্ত কোন দল শেষ হাসি নিয়ে মাঠ ত্যাগ করবে সেটা।