২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অস্ত্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে চুক্তি


বিশ্ব অস্ত্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে এক চুক্তি বুধবার বলবত হয়েছে। এ চুক্তিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা ও অপরাধীদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার ৫শ’ কোটি ডলারের অস্ত্রের বেচা-কেনা হয়, যদিও এ অস্ত্রের পরিমাণ আরও বেশি বলে কোন কোন বিশ্লেষকের ধারণা। মার্কিন সিনেট চুক্তিটি অনুমোদন না করা সত্ত্বেও এটি বলবত হলো। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এ পদক্ষেপকে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আশা ব্যক্ত করেন যে, চুক্তিটি ‘যুদ্ধবাজ, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী, সন্ত্রাসী ও অপরাধী সংগঠনগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহ রোধ করতে সহায়ক হবে। সেক্ষেত্রে অস্ত্র সরবরাহ যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার বিস্তার ঘটাতে পারে, চুক্তিতে সে ক্ষেত্রেও অস্ত্র চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। খবর বিবিসি, এএফপি ও ইয়াহুনিউজের।

নতুন অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিটি (এটিটি) হবে ১৯৯৬ সালের ব্যাপক পরমাণু পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তির পর প্রথম বড় ধরনের অস্ত্র চুক্তি। এতে ট্যাঙ্ক, জঙ্গী বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্ষুদ্র অস্ত্র সব কিছুরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হস্তান্তর নিয়ন্ত্রণ করতে চাওয়া হচ্ছে। চুক্তিতে অস্ত্র রফতানির বিষয়ে জাতীয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠন করা দেশসমূহের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোন অস্ত্র রফতানি কোন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারে কিনা সেই অস্ত্র গণহত্যা বা যুদ্ধাপরাধ সংঘটনে অথবা সন্ত্রাসী বা সংঘবদ্ধ অপরাধীদের দ্বারা ব্যবহৃত হতে পারে কিনা, রাষ্ট্রসমূহকে তা অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে। মোট ১৩০টি দেশ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করে এবং তাদের মধ্যে ৬০টি তা অনুমোদন করে। তাদের মধ্যে ইসরাইলও রয়েছে। দেশটি মাত্র চলতি মাসে এ চুক্তিতে যোগ দেয়। এটি বলবত হতে হলে এতে মোট ৫০টি দেশের অনুমোদন থাকার প্রয়োজন ছিল।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র রফতানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ২০১৩-এর সেপ্টেম্বর মাসে অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে সই করে, কিন্তু সিনেট তা অনুমোদন করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে অন্যতম শক্তিশালী গান লবি ন্যাশনাল রাইফেল এ্যাসোসিয়েশন চুক্তিটি অনুমোদনের বিরোধিতা করছে, যদিও এটি কেবল অস্ত্র রফতানি নিয়ন্ত্রণ করে, অভ্যন্তরীণ বন্দুক বিক্রিকে নয়। রাশিয়া, চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো অস্ত্র উৎপাদনকারী বড় বড় দেশ চুক্তিটিতে সই করেনি। তবে বিশ্বের ১০টি শীর্ষ অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে ৫টি-ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও স্পেন চুক্তিটি সই ও অনুমোদন করেছে। বান কি মুন বলেন, চুক্তিটি বিশ্বে অস্ত্র বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আনতে আমাদের যৌথ প্রচেষ্টায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। তিনি বলেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে এটি সশস্ত্র সংঘাত ও সহিংসতার কবলে পড়া এলাকাগুলোতে অস্ত্র সরবরাহ বা চালান রোধ করে মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে আমাদের সমষ্টিগত দৃঢ়সঙ্কল্পই তুলে ধরেছে।

বান মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, সব রাষ্ট্রকে বিশেষত অস্ত্র রফতানিকারক ও আমদানিকারক বড় বড় রাষ্ট্রকে এ চুক্তিতে যোগ দেয়ার জন্য উৎসাহিত করে এতে সবার অংশগ্রহণের পথ সুগম করে যাওয়া আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, যেসব রাষ্ট্র এখনও এতে যোগ দেয়নি, আমি তাদের অনতি-বিলম্বে তা করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও কন্ট্রোল আর্মস কোয়ালিশনের মতো অস্ত্রবাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের সমর্থকরা চুক্তির নীতিগুলো কঠোরভাবে পালন করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানায়।

লবিগ্রুপ কন্ট্রোল আর্মসের ডিরেক্টর আনা ম্যাকডোন্যাল্টড বলেন, আন্দোলনকারীরা এ মুহূর্তের জন্য এক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে এসেছেন। চুক্তিটি নতুন যুগের সূচনা করবে। যদি এটি দৃঢ়তার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয় তা হলে এটি বিশ্বে অনেক জীবন বাঁচাতে পারে এবং অরক্ষিত বেসামরিক লোকজনকে খুবই প্রয়োজীয় নিরাপত্তা দিতে পারে।