২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ফিলিস্তিনকে আর সমর্থন নয়!


ভারতের মোদি সরকার জাতিসংঘে ফিলিস্তিনীদের প্রতি সমর্থন দানের নীতির ইতি টানতে পারে। দিল্লী তেল আবিবের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে এ পদক্ষেপ নিতে পারে। এটি হবে ভারতের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে এক মৌলিক পরিবর্তন। খবর হিন্দু ও ইয়াঙ্গু ইন্ডিয়া নিউজের।

ভারত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনী রাষ্ট্র প্রসঙ্গে প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সেই সময়ে ভোটদানে বিরত থাকার সম্ভাবনার কথা ভাবছে। এটি হবে অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারসহ পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ফিলিস্তিনীকে সমর্থন করার নীতি থেকে স্পষ্টভাবে সরে যাওয়া। মোদি সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার ভারতীয় চেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ঐ পদক্ষেপ নেবে বলে মনে হয়। একই সময়ে পররাষ্ট্রনীতির এ স্পষ্ট পরিবর্তন পশ্চিম এশীয় দেশগুলোর রাজধানীতে উদ্বেগের সঞ্চার করতে পারে। এ পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে দু’সরকারী সূত্রে হিন্দু পত্রিকার কাছে নিশ্চিত করা হয়। এক সূত্রে বলা হয়, পররাষ্ট্রনীতির অন্যান্য ইস্যুর মতো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ফিলিস্তিনি ইস্যুতে জাতিসংঘে ভারতের ভোটদানের রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখছে। এ পরিবর্তনের জন্য কেবল প্রশাসনিক সম্মতিই যথেষ্ট বলে অন্য সূত্রে উল্লেখ করা হয়।

অ-আরব দেশগুলোর মধ্যে যেগুলো ফিলিস্তিনী মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) ফিলিস্তিনী জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ভারত ছিল তাদের অন্যতম। মহাত্মা গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন, ফিলিস্তিন আরবদের, যে অর্থে ইংল্যান্ড ইংরেজদের বা ফ্রান্স ফরাসীদের ইহুদীদের আরবদের ওপর চাপিয়ে দেয়া অন্যায়ও অমানবিক। ফিলিস্তিনকে যাতে ইহুদীর জাতীয় আবাসভূমি হিসেবে ফিরিয়ে দেয়া যায়, সেজন্য গর্বিত আরবদের সংখ্যা হ্রাস করা এক মানবতাবিরোধী অপরাধই হবে। ১৯৭৫ সালে নয়াদিল্লীতে পিএলওর এক অফিস খোলা হয়। ১৯৮০ সালে দুটি জাতির মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালে ভারত গাজায় এক প্রতিনিধির অফিস খোলে। ১৯৯৫ সালে ভারত ফিলিস্তিনকে ১০ লাখ মার্কিন ডলার এবং পরে ১৯৯৬ সালে আরও ১০০ কোটি ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

ভারত ২০০৬ সালে ইরাক থেকে আগত ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়। তাদের অনেকে পরে সুইডেনে পুনর্বাসিত হয়। অক্টোবরে সুইডেন সরকারীভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ইউপিএ সরকার ফিরিস্তিনীদের প্রতি ভারতের সমর্থনের ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন ঘটাতে সম্মত হয়নি। অথচ সেই সরকার ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দিতে বহুদিনের মিত্র ইরানকে পরিত্যাগ করে।

এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবি বাজপেয়ীর সরকার ২০০৩ সালে ভারত সফরের জন্য ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী এ্যারিয়েল শ্যারনকে আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু সেই সরকারও জাতিসংঘে ভারতের ভোটিং রেকর্ডের পরিবর্তন ঘটায়নি। ২০০৬ সালে ভারত গাজায় ইসরাইলী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক জোরালো বিবৃতি দেয়। এতে ঐ শক্তি প্রয়োগকে মাত্রাতিরিক্ত বলে অভিহিত করা হয়। জুলাই মাসে ইসরাইলী হামলায় গাজায় প্রায় ২২০০ লোক নিহত হলে ভারত এর ফিলিস্তিন নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে বলে পুনর্ব্যক্ত করে এবং আলোচনায় বসতে দু’পক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়। সেপ্টেম্বরে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, এ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ভারত ফিলিস্তিনী স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। ১৯৯১ সালে ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। কিন্তু জাতিসংঘে ভারতের অবস্থান দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিরক্তিকর বিষয় হয়ে থাকে।