২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ছাত্রলীগকে গণধোলাই দিয়ে শিষ্টাচার শেখাবে ছাত্রদল


স্টাফ রিপোর্টার ॥ যে কোন মূল্যে আগামী ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে বিএনপির সমাবেশ সফল করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ছাত্রলীগের সমাবেশ করতে না দেয়ার ঘোষণার প্রেক্ষিতে ছাত্রদল সোমবার সমাবেশ সফল করার এ ঘোষণা দেয়। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে ছাত্রলীগের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। অন্যথায় ছাত্রলীগকে গণধোলাই দিয়ে তাদের শিষ্টাচার শেখানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, আগামীতে সব আন্দোলনে মাঠে থাকবে ছাত্রদল। ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে খালেদা জিয়ার পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশসহ সকল সমাবেশ নির্ধারিত জায়গায় নির্দিষ্ট সময়েই হবে। খালেদা জিয়ার সমাবেশ সফল করার জন্য গাজীপুরসহ অন্যান্য এলাকায় যে ভাষায় কথা বলা দরকার এবং যে পদ্ধতিতে কাজ করা দরকার তা করতে ছাত্রদল বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ২৭ ডিসেম্বর বেগম জিয়ার পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশস্থলে সমাবেশ আহ্বান করে তা প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে, যা ছাত্রদলসহ ছাত্রসমাজকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে। ছাত্রদল মনে করে ছাত্রলীগের এ বক্তব্য হাস্যকর ও অর্বাচীন আস্ফালন। খালেদা জিয়ার সমাবেশকে প্রতিহত করার ঘোষণার পরিণাম কি ভয়াবহ হতে পারে ছাত্রলীগকে তা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও খুনের ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনসহ সারাদেশ এখন মৃত্যুপুরী। বিগত আওয়ামী সরকারের ৫ বছর ও বর্তমান অবৈধ সরকারের এক বছরে নিজেদের কোন্দলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুন হয়েছে ৫০ মেধাবী ছাত্র।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ছাত্রলীগ ছাত্রদলের সাংগঠনিক নেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে বিরূপ মন্তব্য করে আসছে। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সারাদেশে যে খুনের রাজত্ব কায়েম করেছে, সেই ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগও দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধাবী ছাত্রদের একের পর এক খুন করে নিজেদের হাত রক্তে রঞ্জিত করছে।

গণতন্ত্র হত্যা দিবস ॥ ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। এটা গণতন্ত্র রক্ষা নয়, গণতন্ত্র হত্যা দিবস। যে দেশে গুম খুন হয়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না, মিছিল মিটিং করতে বাধা দেয়া হয় সেখানে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকতে পারে না। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শাহ মোয়াজ্জেম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথায় কথায় খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানের দালাল বলেন। কিন্তু স্বাধীনতাযুদ্ধে শেখ হাসিনার কি অবদান ছিল। আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস ঘোষণা করেছে। তারা কিসের গণতন্ত্রের কথা বলে। যে দেশে খুন গুম হয়, যে দেশে মত প্রকাশের কোন স্বাধীনতা নেই, মিছিল করতে দেয়া হয় না। সরকারী দল সভা সমাবেশ করলে অনুমতি পায় আর বিএনপি সভা সমাবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এটা গণতন্ত্র রক্ষার দিবস নয় এটা হলো গণতন্ত্র হত্যার দিবস।