২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে


দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে

আমাদের সমাজব্যবস্থায় খাটো মানুষদের সঙ্গে এমনভাবে ব্যবহার করা হয় যেন এটা তার একটা অপরাধ। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গের বৃদ্ধিতে ব্যাহত বা স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না গ্রোথ হরমোনের অভাবে। এজন্য পরিবারের উচিত শিশু জন্মের পর তার শারীরিক সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া। কেননা শিশুবয়স থেকে সঠিক চিকিৎসা না পেলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চতা বৃদ্ধির হার হ্রাস পায়। সমাজে খাটো মানুষকে হেয় এবং নীচুমানের চোখে দেখা হয়। বয়স অনুযায়ী তার উচ্চতা কম হওয়ায় প্রতিনিয়ত পরিবারের ব্যঙ্গত্মক কথা শুনতে হয়। বাবা-মা তাকে বোঝা হিসেবে দেখে। কেননা মেয়ে হলে তো এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা বাবা-মা’র দুশ্চিন্তা, তাকে বিয়ে দিতে পারবেন না কিংবা বিয়ে দিতে প্রচুর টাকা খরচ পড়বে। আমাদের সমাজব্যবস্থায় এমন কুসংস্কারাপন্ন মনমানসিকতা এখনও বিদ্যমান। খাটো মানুষ দেখলেই আমরা তাদের বিদ্রƒপ করে কথা শোনাই, হাসি-তামাশা করি, এমনভাবে তাকে দেখি যেন পৃথিবীতে সেই সবচেয়ে খাটো। এক্ষেত্রে তারা ভাবে অন্যের কাছে তারা জোকার। বাইরের মানুষের ব্যঙ্গাত্মক কথা এবং লজ্জা পাবার ভয়ে তারা একঘরে একাকী জীবন বেছে নেয়। তারা এক মানসিক যন্ত্রণায় থাকে। অন্যদের তুলনায় তাদের অধিক মেধা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং কর্মক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে পারিবারিক সমর্থন কিংবা সমাজব্যবস্থায় ইতিবাচক আচরণের অভাবে। কিন্তু আমরা কেউ একবারও এটা ভাবি না যে তার জায়গায় আমি থাকলে আমার মানসিক অবস্থাটা কেমন হতো?

জীবনকে সাজিয়ে তুলন : অপমান এবং লজ্জার ভয়ে জীবনের গতি থামাবেন না, যে যাই বলুক সব অপমান, লজ্জা, ভয় সঙ্কোচ দূর করে সামনের দিকে এগিয়ে চলুন ওই দূর নীলিমায় ভেসে বেড়াবেন বলে। কখনও হতাশ না হয়ে নিজের ওপর আস্থা, বিশ্বাস রাখুন। অন্যের তিক্ত কথায় নিজেকে অগোচরে নিঃশেষ না করে নিজেকে উদ্ভাসিত করুন নতুন আলোকে। সবাইকে দেখিয়ে দিন আপনার কর্মপ্রক্রিয়াগুলো মূল্যহীন নয়।

মেঘবালিকা