২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

জন গ্রিসামের গ্যারি মাউনটেইন


জন গ্রিসামের বই মানেই এ্যাডভেঞ্চার। রোমাঞ্চে ভরপুর কোন থ্রিলার এবং বেস্ট সেলার। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘গ্যারি মাউনটেইন’ বইটিও নিউইয়র্ক টাইমসের এই সপ্তাহের বেস্ট সেলার। একুশ বছর আগে গ্রিসাম ‘দ্য পেলিক্যান ব্রিফ’ নামক একটি উপন্যাস লিখেছিলেন। সেই উপন্যাসটি সুপ্রীমকোর্টের দু’জন বিচারকের গুপ্তহত্যার কাহিনীর ভিত্তিতে লেখা হয়েছিল। উপন্যাসটির নায়িকা ডার্বি শ’র জীবন হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল যার মূল কারণ ছিল প্রেসিডেন্সিয়াল ষড়যন্ত্র। একুশ বছর পর গ্রিসাম দ্বিতীয়বারের মতো তাঁর উপন্যাসের নায়িকা করেন একজন মহিলা আইনজীবীকে। তবে এবার কোন রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র নয়, এবারের কাহিনী ঝুঁকিপূর্ণ কয়লাখনির অন্ধকার জগতকে ঘিরে।

২০০৮ সালের বিশ্বমন্দায় শেয়ার ব্যবসায় ধস নামে। সেই সঙ্গে ধস নামে ম্যানহাটনের সহযোগী এ্যাটর্নি উনত্রিশ বছর বয়সী আইনজীবী সামান্থা কফারের ক্যারিয়ারে। লেহম্যান ব্রাদার্সের ধসের দু’সপ্তাহের মধ্যেই সামান্থাকে ওয়ালস্ট্রিট ছাড়তে হয়। নিউইয়র্ক থেকে পাড়ি জমাতে হয় ভার্জিনিয়ার ছোট্ট শহর ব্রাডিতে। দুর্ভাগ্যের কারণে নিউইয়র্কের বড় ল’ফার্ম থেকে থিতু হতে হয় ছোট্ট শহরের একটি লিগ্যাল এইড ক্লিনিকে। তাও আবার ইন্টার্ন হিসেবে। এছাড়া সামান্থার অন্য কোন উপায় ছিল না। কেননা এটিই ছিল তার আগের চাকরিতে ফিরে আসার শর্ত। সে যাই হোক, মাউন্টেইন লিগ্যাল এইড ক্লিনিকে বস হিসেবে ম্যাটি ওয়েটকে পেয়ে তার ছোট্ট শহরে চলে আসার দুঃখ ঘুচে যায়। ম্যাটি ওয়েটের কাছ থেকে সে নিত্যনতুন অনেক কিছুই শিখতে সক্ষম হয়। জ্ঞানের পরিধি বাড়তে থাকে। সে শিখে কিভাবে প্রকৃত সমস্যাক্রান্ত লোকদের সহায়তা করতে হয় যেটা তার তিন বছরের নিউইয়র্কের বড় ফার্মে কাজ করার মধ্য দিয়েও জানতে পারেনি। কোর্টরুমে কিভাবে কথার মারপ্যাঁচে বিচারকের কাছ থেকে সঠিক বিচার আদায় করে নিতে হয় তা বেশ ভালভাবেই রপ্ত করে ফেলে সামান্থা।

কিন্তু সামান্থা জটিলতার মধ্যে পড়ে যায় একটি মামলা নিজে তদন্ত করতে গিয়ে। ডোনাভান গ্রে নামক এক ব্যক্তি বড় কয়লা কোম্পানির দুর্নীতি এবং দুর্নীতিবাজ আইনজীবীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে প্রাণ হারান। এই মামলাটির জট খোলার দায়িত্ব পেয়ে সামান্থা জড়িয়ে পড়েন কয়লাখনির দুর্নীতিবাজদের রোষানলে। কয়লাখনিতে প্রায়ই আইন ভঙ্গ হয়। খুনাখুনি, রক্তাক্তি এবং ষড়যন্ত্র যেন সেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। সামান্থার চোখের সামনে উন্মোচিত হতে থাকে কয়লাখনির গহিন অন্ধকার রহস্য। খনিতে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং এরসঙ্গে স্থানীয় রাজনীতির যোগসূত্র তিনি খুঁজে পান। কয়লাখনির গহিন রহস্য উদ্ধারে এবং জটিলতা নিরসনে সামান্থা বেশ আটঘাট বেঁধে নেমে পড়েন। এজন্য তার জীবন হুমকির মুখে পড়ে যায়। কিন্তু পিছপা হয় না সামান্থা। তাকে কয়লা কোম্পানির দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহে তথ্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় স্থানীয় যুবক জেফি। একত্রে কাজ করতে গিয়ে এই দুই যুবক-যুবতীর মাঝে প্রেম ভালবাসা জন্ম নেয়। দু’জনে একত্রে বড় কয়লা কোম্পানির ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে। কোম্পানির দুর্নীতির যাবতীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে মামলায় জিতে যায়। এই মামলার জয় সামান্থার জীবনকে বদলে দেয়। সে আর ফিরে যেতে চায় না ম্যানহাটনের সেই জাঁকঝমকপূর্ণ জীবনে। ব্রাডির লিগ্যাল এইড ক্লিনিকে ইন্টার্ন শেষে সেখানেই থিতু হয়ে যায় সে।

জন গ্রিসাম এই বইটির মাধ্যেমে একজন আইনজীবীকে সত্যেরপক্ষে লড়াইয়ে কিভাবে জীবনের হুমকির মুখে পড়তে হয় তা চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন। কয়লাখনিতে কেমন দুর্নীতি আর ষড়যন্ত্র চলে সে রহস্য উন্মোচন করেছেন সামান্থা কোফারের মাধ্যেমে। এই বইটি সম্পর্কে ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা হয়, ‘গ্রিসামের এই বইটি বেশি সিরিয়াস ধর্মী, বেশি শক্তিশালী এবং এটি তাঁর ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিভার যোগ্য রচনা।’ এই বইটি পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। থ্রিলারের পাশাপাশি সত্যানুসন্ধানধর্মী এই বইটির কাহিনীর গভীরতা পাঠককে আকৃষ্ট করেছে। তাইতো বইটি নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলারের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।