১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কেরানীগঞ্জে শতাধিক ইটভাঁটিতে জ্বলছে না আগুন!


সালাহউদ্দিন মিয়া, কেরানীগঞ্জ ॥ জ্বালানি সংকটে বন্ধ হয়ে পড়েছে কেরানীগঞ্জের শতাধিক ইটভাঁটি। এতে করে বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কায় লক্ষাধিক শ্রমিক। ভারত কয়লা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বিপাকে পড়েছে ইট প্রস্তুতকারীরা।

কেউ কেউ মজুদ থাকা কয়লা দিয়ে ইটখোলার চুলায় আগুন দিলেও অধিকাংশরা এখনও ইট পোড়ানো শুরু করতে পারেনি। ফলে বেকার হয়ে পড়তে বসেছে ইট ভটিতে কর্মরত প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক। চলতি মাসে ইট প্রস্তুতকারীরা ভারত থেকে কয়লা আমদানি করতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে করে বেড়ে যাবে ইটের দাম, বাড়বে সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার কাঁচা মালের দামও। এই দাম বৃদ্ধি সরাসরি আঘাত হানবে নির্মাণ শিল্প ও উন্নয়ন খাতে।

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি কেরানীগঞ্জ শাখার সভাপতি আলহাজ মোঃ আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক কোন্ডা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাজী আবু বকর জানান, আগে এক সময়ে ইন্দোনেশিয়া, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কয়লা আমদানি করে ইট ব্যবসা চালালেও গত ১০/১৫ বছর যাবত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে কয়লা আমদানি করে এ ব্যবসা ধরে রেখেছি। বলতে গেলে দেশের ইট প্রস্তুতকারীরা আসামের কয়লার ওপর নির্ভশীল। ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে ৪ মাস যাবত কয়লা আমদানি বন্ধ রয়েছে। যার কারণে শতাধিক ইটভাঁটি বন্ধ হয়ে পড়েছে।

বাউফলে ধানের ন্যায্যমূল্যে বঞ্চিত কৃষক, উৎপাদন খরচ উঠছে না

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, ১৭ ডিসেম্বর ॥ এ বছর বাউফল উপজেলার সর্বত্র আমন ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বাজারে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি না হওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। সরেজমিন বাউফলের কালাইয়া, হাজিরহাট, বগা ও কালিশুরী হাট পরিদর্শন করে দেখা গেছে, প্রচুর পরিমাণে ধান আমদানি হলেও ক্রেতাদের আগমন কম। আদাবাড়িয়া মহেসেন উদ্দিন গ্রামের বর্গ চাষী আবু সালে জানান, তিনি এ বছর এক একর জমিতে ধান চাষ করেছেন। প্রতি একর জমির জন্য মালিককে দিতে হয়েছে ৮ হাজার টাকা, ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ২শ’ টাকা, ধানের চারা রোপণ করতে খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা, জমিতে সার বাবদ খরচ হয়েছে ১ হাজার ৬শ’ ৫০ টাকা, ধান কাটায় খরচ দিতে হয়েছে ২ হাজার ৪শ’ টাকা, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ হয়েছে ৬শ’ ৫০ টাকা। এ সব মিলিয়ে এক একর জমিতে ধান উৎপাদন বাবদ মোট খরচ হয় ১৭ হাজার ৯শ’ টাকা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর একর প্রতি ধান হয়েছে ১৫ থেকে ২০ মণ। সে অনুযায়ী উৎপাদন খরচসহ প্রতি মণ ধানের মূল্য হয় ১ হাজার ১শ’ ৯৩ টাকা। সেখানে বর্তমান বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ ৮০ থেকে ৬শ’ টাকা দরে। যা উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রতিমণে ৩শ’ থেকে ৩শ’ ৮০ টাকা কম । তাই এ বছর তাকে লোকসান গুনতে হয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এ এলাকার কৃষকরা নিয়ম মেনে সরকারকে ধান দিতে পারেন না বলেই ক্রয় করা হয় না।