১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

উগ্র ডানপন্থীদের উত্থানের আশঙ্কা জার্মানিতে


ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে উগ্র ডানপন্থীদের উত্থান লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়ছে বলে সেদেশের পুলিশ জানিয়েছে। তারা বিদেশীদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। রবিবার জার্মানির এক পত্রিকার খবরে এ কথা বলা হয়। খবর আলজাজিরা অনলাইনের।

একই সময়ে দেশটিতে ইসলাম নীতিকে কেন্দ্র করে যে নয়া আন্দোলন শুরু হয়েছে তা নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে জার্মানির অঙ্গরাজ্যগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ প্রধান হোলগার মিউয়েন্স বলেন, দেশজুড়ে লক্ষণীয় মাত্রায় বিদেশী ভীতিজনতি ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জার্মানির বহুল প্রচারতি দৈনিক ডাইভেল্ট এ্যাম সোনট্যাগ ওই বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে রবিবার এ খবর প্রকাশ করে। জার্মানিতে ক্রমাগত শরণার্থী বৃদ্ধির প্রতিবাদ হিসেবে এ ঘটনাকে দেখা হচ্ছে। জার্মানি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত আশ্রয়প্রার্থী এবং অন্যান্য অভিবাসীর প্রধান লক্ষ্যস্থল। গত বৃহস্পতিবার জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলীয় ভোরা শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের তিনটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এরপর দেয়ালে হিটলারের নাৎসি দলের স্বস্তিকা এবং সাম্প্রদায়িক সেøাগান লিখে রাখা হয়। জার্মানির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার অনুমান দেশটিতে ২২ হাজারের কাছাকাছি উগ্র ডানপন্থী সমর্থক রয়েছে। আর এদের মধ্যে এক চুর্তথাংশের বেশি নব্য নাংসি সমর্থক।

জার্মানির পূর্বের স্যাক্সনি প্রদেশের বিদেশী বিরোধী অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। গত বছর এ সংক্রান্ত অপরাধমূলক ঘটনার সংখ্যা ছিল ১৫২। আর এ বছর তা ১৭৯টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এ সংখ্যা গত দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে পত্রিকার খবরে উল্লেখ করা হয়। জার্মানিতে ইসলামবিরেধিতাও মাথাচাড়া দিচ্ছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত সোমবার জার্মানির প্রাদেশিক শহর ড্রেসডেনে “প্রেট্রিয়টিক ইউরোপিয়ান্স এ্যাগেইনেস্ট দ্য ইসলামাইজেশন অব দ্যা অক্সিডেন্ট বা পিউজিআইডিএর ব্যানারে “মানডে মার্চ” নামে একটি মিছিল হয়েছে। এ মিছিলে ১০ হাজারের বেশি লোক অংশ নেয়। সোমবারের ওই মার্চে যারা অংশ নিয়েছিল তারা জার্মানির বর্তমান অবস্থা নিয়ে খুশি নয়। এ সময় তারা জার্মান পতাকা ওড়ায় এবং জাতীয়তবাদী সেøাগান দেয়।

দেশটির জনপ্রিয় সংবাদপত্র ডারস্পাইসেল এক প্রতিবেদনে জানায়, পিইজি আইডিএর বা পেজিডার তিন সংগঠকের নামে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে। তারা আবার নব্য ন্যাৎসিবাদের সমর্থনপুষ্ট। জার্মানির টিএনএস ইনস্টিটিউটের সাহায্যে এক জরিপ পরিচালনা করে ডারস্পাইসেল। এতে দেখা যায় ৩৪ শতাংশ জার্মান মনে করে তাদের দেশ ইসলামীকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আর ৬৫ শতাংশ লোক মনে করে, চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গোলা মেরকেলের ডান-বামপন্থী কোয়ালিশন অভিবাসী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বর্তমান সংখ্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে না। প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ লোকের দেশ জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ মুসলিম বাস করে।

শুক্রবার চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গোলা মেরকেলের মুখপাত্র পেজিডার প্রতি নিন্দা জানিয়ে বলেছে, জার্মানিতে ইসলামভীতি, ইহুদিবিরোধিতা, বিদেশীদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন এবং সাম্প্রদায়িকতার কোনও স্থান নেই। মেরকেল মনে করেন, জার্মানির জনসংখ্যা কমে আসছে তাই প্রশিক্ষিত শ্রমিক কমে যাওয়ায় বিদেশী শ্রমিক নেয়ার দরকার রয়েছে।