২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হংকংয়ে এখন গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ


হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের প্রধান ঘাঁটি উচ্ছেদ করে দেয়ার পর বিক্ষোভের আপাতত অবসান হয়েছে। তবে এই বিক্ষোভ শহরটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে গভীরভাবে মেরুকরণ করেছে। বিশ্লেষকরা এ কথা বলেছেন। বিক্ষোভকারীরা দুই মাসের বেশি সময় হংকংয়ের ব্যস্ততম এলাকা অচল করে রেখেছিল। খবর এএফপির।

বিশ্ব দেখেছে, এশিয়ার শান্ত আর্থিক কেন্দ্রস্থল হংকং কিভাবে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কেন্দ্রে পরিণত হয়। চীনের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে এসে ২০১৭ সালের নির্বাচনে পূর্ণ গণতন্ত্রের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে হাজার হাজার লোক বিক্ষোভে যোগ দেয়। ব্রিটেনের ১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের পর বেজিং কর্তৃপক্ষের কাছে এটি ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং হংকংয়ের ভবিষ্যত নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। আগস্ট মাসে চীন ঘোষণা দিয়েছিল সব ভোটারই স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, তবে প্রার্থীদের বেজিং অনুমোদিত হতে হবে। এই ঘোষণার পরেই বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামে। বিক্ষোভকারীরা বলেছে, এর ফলে আবারও বেজিংপন্থী দালালকে ক্ষমতায় দেখতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য বিক্ষোভকারী ছাত্রসমাজ আপতত কিছু অর্জন করতে না পারলেও ক্ষমতাসীনদের চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা যে তাদের রয়েছে সেই পরিচিতিটি তারা অর্জন করতে পেরেছে। চীনশাসিত অঞ্চলে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা একটি বিরল ঘটনা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, হংকংয়ে আগামী নির্বাহী বেজিংয়ের পছন্দ মতো হলেও আর্থিকভাবে সবচেয়ে অগ্রসর দ্বীপটিতে রাজনীতিতে যে মেরুকরণ ঘটেছে সমাজ জীবনেও তার প্রভাব পড়ছে। হংকং ব্যাপিস্ট ইউনিভার্সিটির মাইকেল ডিগলিয়ার বলেছেন, মেরুকরণে আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি আরও অনেক বেশি আবেগ আর প্রাণোচ্ছ্বলতা। গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে শহরের তরুণ প্রজন্মের যে রাজনৈতিক জাগরণ দেখা গেছে তা সরকারপন্থী শিবিরকেও উদ্দীপ্ত করেছে।