১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

চট্টগ্রামমুখী এবিসি পাইপ লাইন পরিকল্পনা পরিত্যক্ত!


মহসিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামে গ্যাস সঙ্কট নিরসনে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনাই কার্যকরভাবে আলোর মুখ দেখেনি। রহস্যময় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ সঙ্কট নিরসনে কোন উদ্যোগও নেই। রাজনৈতিক নেতাদেরও এ নিয়ে নীরবতায় চট্টগ্রামে গ্যাস সঙ্কট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ-চট্টগ্রাম নতুন এবিসি পাইপ লাইন স্থাপন পরিকল্পনাতেই থমকে আছে। এ পরিকল্পনা এখন প্রায় পরিত্যক্ত। গত সাত বছরে ২ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা নেয়া হলেও এর কোন অগ্রগতি নেই। ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে গ্যাস সঙ্কট নিরসনের সম্ভাবনা নেই। তার উপর ক্ষুদ্র ও শিল্প গ্রাহকদের কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল) সাপ্তাহিক দুদিন গ্যাস সাশ্রয়ী স্ট্যাগারিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে। এ প্রক্রিয়া চালু হলে চট্টগ্রামে শিল্প উৎপাদনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গত সপ্তাহে বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড এবং আশুগঞ্জের কম্প্রেসার ত্রুটি দেখা দিলে চট্টগ্রামে একদিন প্রায় গ্যাসবিহীন হয়ে পড়ে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের গ্যাস সঙ্কট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় ২৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ-চট্টগ্রাম এবিসি পাইপ লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছিল ২০০৮ সালে পেট্রোবাংলা। কিন্তু তা আর আলোর মুখ দেখেনি। অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে গেছে এ পরিকল্পনাটি। বর্তমান চট্টগ্রাম-বাখরাবাদ পর্যন্ত ১০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইনের বিকল্প হিসেবে নতুন এ পাইপ লাইনটি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের লাইনটি ১৯৮৪ সালে স্থাপনের পর আজ পর্যন্ত চট্টগ্রামের গ্যাস চাহিদা পূরণ করছে। ৩০ বছরে নতুন করে কোন পাইপ লাইন স্থাপন হয়নি। ফলে চট্টগ্রামের দৈনিক সাড়ে ৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ কোনভাবেই সম্ভব নয়। অথচ ২০১৩ সালের মধ্যে এবিসি পাইপ লাইন স্থাপন করে পরবর্তীতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ অফশোর বিডিংয়ে মগনামা, হাতিয়াসহ সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হলে প্রয়োজনে ঢাকা-চট্টগ্রামে এবিসি পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস আনা-নেয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পরিকল্পনাতেই থেমে আছে এবিসি পাইপ লাইন। নিয়োগ হয়নি উপদেষ্টা। ফলে আদৌ এ পাইপ লাইনটি বাস্তবায়ন হয় কিনা তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। এ অবস্থায় চট্টগ্রামে মারাত্মক গ্যাস সঙ্কটের মুখে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও শিল্প গ্রাহককে সপ্তাহে দুদিন করে গ্যাস সাশ্রয়ী স্টেগারিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে কেজেডিসিএল। এতে অতিরিক্ত দুদিন বন্ধ থাকলে শিল্প উৎপাদনে প্রভাব পড়বে। শিল্পোদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার এমনিতেই ছুটির আমেজ থাকে। তার উপর স্টেগারিংজনিত দুদিন বাড়তি ছুটির বোঝা আসলে শিল্প ইউনিটগুলো বন্ধই হয়ে যাবে। গত সপ্তাহে বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডে ত্রুটিজনিত কারণে চট্টগ্রামে সরবরাহে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ এলাকা দিনভর গ্যাসবিহীন ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এর আগে ২০০৮ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় চট্টগ্রামে ভয়াবহ গ্যাস সঙ্কট নিরসনে তিনস্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। ৩ হাজার কোটি টাকার ঘোষণা গ্যাসের অভাবে অলস পড়ে থাকায় এ নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। স্বল্প, মধ্যম এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনায় চট্টগ্রামে সংযোগের জন্য অপেক্ষমাণ ১৫৭ গ্রাহক এবং শিল্প, ক্যাপটিভ পাওয়ার ও সিএনজি স্টেশনের ৭১ গ্রাহকের সম্প্রসারিত অংশে ৮৬ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের কথা ছিল। সে সময় চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক ২২৫ মিলিয়ন ঘনফুট।