২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ময়মনসিংহে ঘুষ দাবিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা


স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ ॥ মুক্তাগাছার চানপুর গ্রামে কোন আসামি গ্রেফতার করাকে কেন্দ্র করে নয়, মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবিকে কেন্দ্র করেই পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই দাবি স্থানীয় এলাকাবাসীর। অথচ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার জেরে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরো চানপুর এখন খালি। গত দুদিন ধরে চানপুরের কোন বাড়ির চুলায় আগুন জ্বলেনি। বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি ফেলে পালিয়ে গেছে পুরো গ্রামের নারী-পুরুষ। কেবল আসামিই নয়, ভাংচুর-তা-ব চালানো হয়েছে গ্রামজুড়ে। এ সময় অনেক নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। মামলায় গ্রেফতার করে হয়রানির অভিযোগ এলাকাবাসীর। এদিকে গত বুধবারের ঘটনায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক শাহীনুর বাদী হয়ে এজাহারভুক্ত ১৫জনসহ ৩০ গ্রামাবাসীর নামে মুক্তাগাছা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশের ওপর হামলকারী কেউ গ্রেফতার না হলেও এজাহারভুক্ত মমতাজ বেগমসহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ময়মনসিংহ আদালত এই ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বৃহস্পতিবার। স্থানীয় সূত্র জানায়, চানপুর গ্রামের বন মামলার ফেরার বাবুলের নামে মাল ক্রোকের পরোয়ানা জারি করতে মুক্তাগাছা থানার সহকারী উপপরিদর্শক শাহীনুর ও রেজানুর গত বুধবার দুপুরে তার বাড়িতে যান। খবর পেয়ে পাশের শামছউদ্দিনের বাড়িতে পালানোর সময় পুলিশ বাবুলকে ধরে ফেলে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাবুলের ঘরে নিয়ে আসার পর ছেড়ে দেয়ার জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে পুলিশ। বাবুলের স্ত্রী সাজেদা এসময় পুলিশের হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা দেন এবং আরও ২০ হাজার টাকা থানায় গিয়ে দিতে আসার ওয়াদা করেন। কিন্তু তাতেও মন ভরেনি শাহীনুর ও রেজানুরের। পুরো ৫০ হাজার টাকা না দিলে হ্যান্ডকাপ পরানোর কথা জানালে সাজেদা ঘর থেকে বের হয়ে বাবুলের সহযোগী জুয়াড়ি হাবলু, আব্দুল, সাজু ও জুলহাসকে মোবাইল ফোনে খবর দেয়। খবর পেয়ে আব্দুল ও তার সহযোগীরা দা, লাঠি নিয়ে দুই পুলিশের ওপর হামলা চালায়। মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন পুলিশ সদস্যদের ঘুষ দাবির ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আসামিদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে।