১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চাপের মুখে হোয়াইট হাউস


যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি ক্রমেই জোরদার হতে থাকায় হোয়াইট হাউস প্রচ- চাপের মুখে পড়েছে। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের নির্যাতন করার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কৈফিয়ত তলবের ওই চাপ পড়ছে ওবামা প্রশাসনের ওপর। একজন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর সিআইএর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থাটি এর জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচী সম্পর্কে কংগ্রেস ও পূর্ববর্তী প্রশাসনকে যথেষ্ট অবহিত রেখেছিল কিনা তা নিয়ে তুমুল বাগ্বিত-া দেখা দিয়েছে। সিআইএ প্রেসিডেন্ট বুশকে বিভ্রান্ত করেছিল। এমন দাবি হোয়াইট হাউস প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর গার্ডিয়ান অনলাইনের।

সিআইএর নির্যাতনমূলক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে মঙ্গলবার সিনেটের সমালোচনামূলক রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং সিআইএর কার্যকলাপ আংশিকভাবে সমর্থন করতে চান। একই সময় তিনি স্বীকার করেন যে, সেগুলো বিশ্বে আমেরিকার নৈতিক মান ক্ষুণœ করে বিপরীত ফল বয়ে এনেছিল। তিনি স্প্যানিশ ভাষী টেলিভিশন চ্যানেল তেলেমুদোর সঙ্গে এক সাক্ষাতকার দিচ্ছিলেন। এটি ছিল ওই রিপোর্ট সম্পর্কে টেলিভিশনযোগে প্রচারিত তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া। তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় ভূখ-ে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার পর আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তার জন্য দায়ী হওয়া যে কি বিষয়, তা কেউই পুরোপুরি বুঝতে পারবে না। যখন দেশগুলো হুমকির মুখে পড়ে, তখন প্রায়ই তারা এমন উপায়ে বুদ্ধিবিবেচনামতো কাজ করে, যা পরের ঘটনাগুলোর আলোকে অন্যায় বলে মনে হয়। আর তাঁর মুখপাত্র হোন আর্নেস্ট পরে সিআইএর নিকৃষ্টতম আচরণকে প্রেসিডেন্ট বুশের কাছ থেকে গোপন রেখেছিল বলে সিনেট রিপোর্টে যে দাবি করা হয়, তাকে নিরুৎসাহিত করেন। সিআইএ হোয়াইট হাউসের কাছে মিথ্যা কথা বলেছিল কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি কিছুটা বিতর্কিত বিষয়। এটি সত্য নয় বলে কেউ কেউ মন্তব্য করে থাকেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক ইউডাল রিপোর্টে উল্লিখিত সিআইএ কর্মকর্তাদের অপসারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, সংস্থাটি হোয়াইট হাউসের সমর্থন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে চলেছে। তিনি সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির বিদায়ী সদস্য। ইউডাল বলেন, ডিরেক্টর (জন) ব্রেনান ও সিআইএ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য এবং নির্যাতনের কার্যকারিতার মিথ্যা বর্ণনা দিয়ে যাচ্ছে। অন্য কথায় সিআইএ সত্যের অপলাপ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি নবেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর এটিই সম্ভবত ওয়াশিংটনে তাঁর শেষ বড় ধরনের ভাষণ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিককাল অবধি সত্য গোপন রাখা অব্যাহত থাকে। তিনি এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের কাছে দেয়া সিআইএর সাক্ষ্য এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিওন প্যানেটার অভ্যন্তরীণ রিপোর্টের মধ্যে বিদ্যমান অসঙ্গতিগুলো উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সিআইএ বর্তমানেও জ্ঞাতসারেই কমিটির কাছে অসত্য তথ্য দিয়েছে। এটি এক গুরুতর অপরাধ এবং কমিটি, কংগ্রেস, হোয়াইট হাউস ও আমাদের দেশের জন্য খুবই অস্বস্তিকর বিষয়। কিন্তু ওবামার মুখপাত্র বুধবার তার নিজের পথেই ব্রেনানকে সমর্থন করে যান।