১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিশ তরুণ নির্দেশকের নাট্যোৎসব


শেখ জাহিদ আজিম ॥ বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের চর্চায় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটারের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক নাট্যচর্চার পথও যে বিস্তৃত ও দীর্ঘ তা প্রমাণ করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগ। ১৯৯৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ নামে নাট্যকলা বিভাগের অন্তর্ভুক্তি ঘটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১ জুলাই ২০০৯ সালে। নাট্যকলা তথা থিয়েটার এ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগ পার করল দুই দশক। গত কুড়ি বছরে নাট্যকলা বিভাগ অনেক সফল প্রযোজনার নাটক মঞ্চে এনেছে। যা মঞ্চনাটকের দর্শকদের আনন্দ দানে হয়েছে সক্ষম শতভাগ। এ বিভাগের প্রযোজিত নাটক নিয়ে প্রতি বছর বিভাগটি কয়েকটি নাট্যোৎসবের আয়োজন করে থাকে। তবে গত নয় বছর যাবৎ থিয়েটার এ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মিলনায়তনে জাঁকজমকের সহিত কেন্দ্রীয় বার্ষিক নাট্যোৎসবের আয়োজন করে থাকে। যেখানে মূল আকর্ষণ থাকে বিভাগের স্নাতক শেষ পর্বের ছাত্রছাত্রীদের নির্দেশিত নাটকের মঞ্চায়ন। যার মাধ্যমে মঞ্চ নাট্যাঙ্গনে নতুন নাট্য নির্দেশকের প্রকাশ ঘটে। শুধু তাই নয় এসব নবীন নির্দেশকের হাত ধরে বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের দর্শক ভিন্ন ভিন্ন নাট্য আঙ্গিকের নাটকের স্বাদ নিতে সক্ষম হয়। এই সকল নাটকের আঙ্গিক, রীতি প্রভৃতিতে যেমন থাকে বৈচিত্র্য তেমনি উপস্থাপনায় থাকে নতুন নির্দেশকদের নিরীক্ষাÑ নয়া সৃজন। আর তাই এই নাট্যোৎসব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা নাটকের দর্শকদের নিকট এক প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। এ বছর ১-১২ ডিসেম্বর মোট বারো দিনব্যাপী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৯ম কেন্দ্রীয় বার্ষিক নাট্যোৎসব ২০১৪ আয়োজন করা হয়েছে। যার প্রতিপাদ্য শিল্প ও জ্ঞানের যৌথ অভিব্যক্তি। নাট্যোৎসবে সর্বমোট ২০টি নাটক মঞ্চায়িত হচ্ছে। অর্থাৎ নাট্যকলা বিভাগের কুড়ি বছর পূর্তিতে কুড়িটি নাটকের মঞ্চায়নের মাধ্যমে নাট্যোৎসব হচ্ছে, যদিও কুড়ি বছর কুড়ি নাটক বিষয়টি কাকতালীয়। কেননা এ বছর চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সংখ্যা কুড়িজন। যাঁরা প্রত্যেকে একটি করে নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নবীন নির্দেশক শুধু নাটক নির্দেশনা দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি, প্রায় প্রত্যেক নির্দেশক নিজ বা অন্যের নাটকে অভিনয়, মঞ্চ-আলোক-পোষাক-সংগীত, মেকআপ পরিকল্পনা ও প্রয়োগ করেছেন। এমনকি অনেকেই একাধিক নাটকে অভিনয় পর্যন্ত করেছেন। এই নাট্যোৎসবের মাধ্যমে নির্দেশক হিসেবে নাট্যাঙ্গনে অভিষেক ঘটছে এমনই একজন নাট্য নির্দেশক লাহুল মিয়া তাঁর নাট্য নির্দেশনার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, জীবনে কখনও ভাবিনি নাটক করব, নাট্যকলায় ভর্তি হওয়ার পর নিজের অজান্তেই নাটক ভালবেসে ফেলেছি। আর এখন নাটক নির্দেশনা দিতে পেরে নিজেকে মনে হচ্ছে একজন পরিপূর্ণ নাট্যশিল্পী হলাম। ওদের কথার মাঝে বেড়িয়ে এলো এই উৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়েছে মোঃ আবদুল হামিদের নির্দেশিত নাটক ‘যামিনীর শেষ সংলাপ’। এরপর ক্রম-মঞ্চায়িত অন্যান্য নাটক গুলি হচ্ছে, দ্য বক্স, এ ওয়াইফ ফর এ লাইফ, দ্য রেপ, চোখে আঙ্গুল দাদা, দ্য ফাদার, ফেরিওয়ালা, প্রতিশোধ, দ-, এ্যাডাম ও ঈভের ডায়েরি, ভালুক, ঈর্ষা, কেক, অপেক্ষমাণ, পঁচিশ বছর পরে অথবা আগে, নাট্যকারের সন্ধানে তিনটি চরিত্র, দ্য লাভার, গতকাল, কমলাকান্তের জবানবন্দী এবং উৎসবের শেষ মঞ্চায়ন ডক্টর ফস্টাস। তবে নাটক দেখতে আসা বেশির ভাগ দর্শকই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণী বা তরুণ নাট্যকর্মী। অর্থাৎ এটা অন্তত দ্বিধাহীনভাবে বলাই যায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগ তরুণ-তরুণীদের মাঝে নাটকের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক চেতনা বোপন করে দিচ্ছে, যার মাধ্যমে হয়ত এই তরুণরা এই চেতনার শিক্ষা কাজে লাগাবে নিজ নিজ অঙ্গনে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে। থিয়েটার এ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের এই নাট্যোৎসবের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে যে নতুন নাট্য নির্দেশকদের প্রকাশ ঘটল তাঁরা ছড়িয়ে যাবেন সারা বাংলাদেশে যাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাবে, বিশ্ব নাট্যাঙ্গনে সামনের আসনে হবে আসীন, এমনই প্রত্যাশা করে ৯ম কেন্দ্রীয় বার্ষিক নাট্যোৎসবে নাটক দেখতে আসা দর্শকেরা।