২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিশ্বকাপে নেই বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক


বিশ্বকাপে নেই বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক

বিশ্বকাপের ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলেও জায়গা হয়নি তারকা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের। অথচ এই যুবরাজের নৈপুণ্যে ভর করে গতবার দীর্ঘ ২৮ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছিল ভারত। ২০১১ সালে টুর্নামেন্টে সেরার পুরস্কার গ্রেট শচীন তেন্ডুলকরকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। চার বছরে উত্থান-পতন, কত কিছুই না দেখতে হলো যুবরাজকে। ক্যান্সার জয় করে মাঠে ফেরা, শিরোপা জয়ের পরের আসরেই আবার বাদ পড়া! গত বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েছেন আরও চার ক্রিকেটার গৌতম গাম্ভীর, বিরেন্দর শেবাগ, জহির খানও হরভজন সিং। তবে যুবরাজকে নিয়ে দুঃখটা বেশি। অকপটে সেটি স্বীকার করেছেন সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী।

‘পাঁচজনের মধ্যে যুবরাজই একমাত্র ক্রিকেটার যে ভারতের হয়ে সীমিত ওভারের ম্যাচে ক’দিন আগেও খেলেছে। গত মার্চে টি-২০ বিশ্বকাপে ছিল, মানছি প্রত্যাশিত পারফর্মেন্স দেখাতে পারেনি। কিন্তু ২০০৩ থেকে ২০০৭ টি২০ ও ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা তিন তিনটা বিশ্বকাপে দেশের হয়ে ওর যা অবদান, অবিশ্বাস্য সব পারফর্মেন্স, তাকে একটা মাত্র ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ছুড়ে ফেলাটা অন্যায়। যুবির জন্য খারাপ লাগছে,’ বলেন সৌরাভ। টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে যুবরাজের ধীরগতির ইনিংসকে হারের জন্য দায়ী করেন অনেকে। তবে সুরেশ রায়নাসহ একাধিক তরুণের দুরন্ত পারফর্মেন্স যুবির জন্য বাঁধা হয়েছে বলেও মনে করেন সৌরভ। সাড়ে তিন বছরে সব কেমন বদলে গেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা ২০১১ বিশ্বকাপের কথা নিশ্চই ভুলে যাননি। যুবরাজ সিংয়ের দুরন্ত অলরাউন্ড নৈপুণ্যে দীর্ঘ আটাশ বছর পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছিল ভারত। অথচ পরের বিশ্বকাপের রেসে নেই তিনি! এরই নাম উত্থান-পতন। তবে কেবলই ফর্ম নয়, যুবির গল্পটা ভিন্ন।

এসময়ে মরণব্যাধী ক্যান্সার জয় করে ফেরা যুবরাজ এখনও আশা ছাড়েননি। বিশ্বকাপে না হলেও এখনও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর স্বপ্ন দেখেন ৩২ বছর বয়সী তারকা। অবশ্য বাস্তবতা মেনে নিয়েই বিশ্বকাপে ফেরাটাকে অলীক বলে মেনে নিয়েছেন তিনি! বাস্তবাতায় বিশ্বাস করেন বলেই বলেন, ‘বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে ততই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছি। গতবার কী দারুণ সময়ই না গেছে। আমরা ট্রফি পুনরুদ্ধার করলাম। স্বপ্নপুরুষ শচীন তেন্ডুলকরকে উৎস্বর্গ করলাম আমার ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার। সবকিছুই ছিল স্বপ্নের মতো। আরেকটি বিশ্বকাপ দ্বারে। জানি হয়ত এবার দলের সঙ্গী হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই! কিন্তু আবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার আশা ছাড়িনি। এজন্য সংগ্রাম করে যাব।’ দল ঘোষণার কয়েকদিন আগে এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেন যুবরাজ। ২০১১ সালটা যেমন বিশ্বকাপ-আনন্দ ভাসিয়েছে তাঁকে, তেমনি হতাশার শুরুটাও সেখান থেকে। বিশ্বকাপের ঠিক পর পরই মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বেঁচে থাকাটাই যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে ক্যান্সারজয় করে ফের মাঠে ফিরেছেন তিনি। খেলেছেন আন্তর্জাতিক ম্যাচে। চলতি বছর এপ্রিলে ঢাকায় টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষবারের মতো ভারতের জার্সিতে দেখা গেছে পাঞ্জাব-পুত্রকে। ফাইনালে তার ধীরগতির ইনিংস এখনও দলের হারের জন্য দায়ী বলে মনে করেন অনেকে। ওয়ান্ডে খেলেছেন তারও আগে, গত বছর ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। ধারাবাহিক ব্যর্থতায় জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন এক সময়ের অপরিহার্য অলরাউন্ডার। যুবরাজ বিশ্বকাপের দলে ফিরবেন, আবার ঝলসে উঠবেন এমন আশা তিনিও করেননি! ‘বিশ্বকাপের কয়েক বাকি। মহেন্দ্র সিং ধোনি তার দল গুছিয়ে নিচ্ছে। যারা খেলছে তারা ভাল করছে। তাই বাস্তবতা মেনে নিচ্ছি আমি। আমার লক্ষ্য ভবিষ্যতে দলে ফেরা।’ ২০০৩ থেকে এ পর্যন্ত ৪০ টেস্ট, ২৯৩ ওয়ানডে ও ৪০টি টি২০ ম্যাচ খেলেন তিনি। প্রায় সাড়ে ৮ হাজার রান ও ১শ’র উপরে উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতমসেরা অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং। যুবির বাদ পড়া ছাড়া বাকিদের নিয়েও কথা বলেন সৌরভ। গৌতি-ভাজ্জিরা বাদ পড়ায় অবাক হননি সৌরভ গাঙ্গুলী। সাবেক অধিনায়কের মতে, ভাল-মন্দের বিচার হয়ে যাবে ময়দানি লড়াইয়ে। অবশ্য বর্তমান দল ও বাদ পড়াদের নিয়ে নিজের ভাবনাটা খেলাখুলিই জানিয়েছেন কলকাতার ‘দাদা বাবু’ খ্যাত সৌরভ। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের প্রাথমিক ৩০ সদস্যের তালিকা দেখে আমি একেবারেই অবাক নই। শেবাগ, জহির, হরভজন আর গাম্ভীরকে সম্ভাব্য দলে রাখেননি নির্বাচকরা। সত্যি বলতে, তালিকায় ওদের নামগুলো দেখব, এটা আমি আশাও করিনি।’ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘যারা বাদ পড়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে গৌতিই একমাত্র ক্রিকেটার যে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছে। ইংল্যান্ড সফরে ছিল। কিন্তু টেস্টে সুযোগটা একদমই কাজে লাগাতে পারেনি। ওর জায়গায় শিখর ধাওয়ান, অজিঙ্কা রাহানে আর চোট সারিয়ে ফেরার পর রোহিত শর্মাকে সুযোগ দিয়ে দেখা হয়েছে। ওপেনিং পজিশনে তিনজনই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে পায়ের তলায় মাটি শক্ত করে নিয়েছে। তাই আমার মনে হয়নি, ধাওয়ান-রোহিতদের বাইরে রেখে গাম্ভীর-বিরেন্দর রাখার কোনও সুযোগ ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ শেবাগ ভারতীয় ইতিহাসেরই সেরা ওপেনারদের একজন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ও খেলার মধ্যে নেই। জাতীয় দলে নেই। ঘরোয়া ক্রিকেটেও ফিরে আসার মতো কিছু করতে পারেনি। বিশ্বকাপ এমন একটি আসর যেখানে কেবল আবেগ দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই।’