১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

সেরার সেরা সাকিব আল হাসান


সেরার সেরা সাকিব আল হাসান

রোকসানা বেগম ॥ প্রায় ৬ বছর আগের কথা। ২০০৯ সালের ২১ জানুয়ারি, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা ঘটল। যা কোনদিন ভাবা হয়নি। বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটার আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের কোন একটি বিভাগে ১ নম্বর স্থান দখল করে নেবে, তা কল্পনাতেও আসেনি। কিন্তু তাই ঘটল! দিনটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সুখের খবর এলো। বাংলাদেশেরই একজন ক্রিকেটার ওয়ানডে অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বর স্থানটি দখল করে নিলেন। তিনি সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের এ একজন ক্রিকেটারই আছেন, যিনি দেশের হয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের কোন বিভাগে ১ নম্বর স্থানটি দখল করার যোগ্যতা দেখিয়েছেন। এখন সাকিবের এমন অবস্থাই হয়ে গেছে, বর্তমানে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারই হয়ে গেছেন সাকিব।

কী ওয়ানডে, কী টেস্ট, কী টি২০; সব ফরমেটের ক্রিকেটে অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা ৩ নম্বরে আছেন সাকিব। বিশ্বের একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব, যিনি সব ফরমেটেই এমন দক্ষতার সঙ্গে অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে যোগ্যতা দেখিয়ে চলেছেন। টেস্ট ও টি২০-তে সাকিব তো ১ নম্বরে আছেনই। আর ওয়ানডেতে আছেন ৩ নম্বরে। বিশ্বের আর কোন ক্রিকেটারই এ মুহূর্তে এমন গৌরব অর্জন করতে পারেননি। অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা পাঁচে থাকা ক্রিকেটারদের দেখলেই তা বোঝা যায়। কোন এক ক্রিকেটার তিন ফর্মেটে সেরা পাঁচে নেই। একমাত্র সাকিব আছেন। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এখন শুধুই সাকিব। তা বলাই যায়। এ অলরাউন্ডার ওয়ানডেতে টানা তিন বছর ১ নম্বর স্থানটি দখল করে রেখেছিলেন। এরপর থেকে স্থানচ্যুত হতে থাকেন। এখন তার অবস্থান তিন নম্বরে। টেস্টেও ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর যে এক নম্বর স্থানটি দখল করে নেন, উত্থান-পতন শেষে আবার সেরার আসনটিতেই বসে আছেন সাকিব। আর টি২০-তে রবিবার শীর্ষ স্থানটি দখল করে নেন।

এত বড় মাপের একজন ক্রিকেটার হয়েও ২৭ বছর বয়সী সাকিবের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কালিমা লেগেই আছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাস্তি পেতে হয়েছে। এ শাস্তি যদিও এখন আর নেই। পুরোপুরি মুক্ত হয়ে গেছেন। এরপরও ৬ মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও দেড়বছরের জন্য দেশের ঘরোয়া ও দেশের বাইরের লীগ খেলতে না দেয়ার যে শাস্তি পেতে হয়েছে, সেটিই সাকিবের কলঙ্ক হয়ে থাকছে। তবে সাকিব এখন সবদিক থেকেই মুক্ত হয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে টেস্টের শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছেন। ওয়ানডেতে সেটি না পারলেও টি২০-তে পাকিস্তান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ খারাপ খেলতে থাকায় সাকিব এখন ১ নম্বরে চলে গেছেন। দেশের ঘরোয়া লীগও খেলছেন সাকিব। এখন বাকি থাকল শুধু দেশের বাইরের লীগ খেলা। সেটিও দ্রুতই হয়ে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি২০ লীগ বিগব্যাশে সাকিব খেলতে পারেন। খেললেই বিদেশের লীগেও খেলা হয়ে যাবে।

সাকিব শুধু শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্যই শাস্তি ভোগ করেননি। আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলার সময় উচ্ছৃঙ্খল অঙ্গভঙ্গি দেখানোর দায়েও শাস্তি ভোগ করেছেন। তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন। এরপর আবার ৬ মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও নিষিদ্ধ হয়েছেন। বোর্ডের অনুমতি না নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট লীগ টি২০ খেলতে চলে যান সাকিব। বোর্ড তাঁকে দেশে ফিরতে বলে। সাকিবও দেশে ফিরে আসেন। সাকিব এরমধ্যে নাকি কোচ হাতুরাসিংহের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, ক্রিকেট থেকেই অবসর নিয়ে নেবেন। সবকিছু মিলিয়ে সাকিবকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। শেষপর্যন্ত সব নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এখন মুক্তও হয়ে গেছেন সাকিব।

৩৭ টেস্টে ৭১ ইনিংস ব্যাটিং করে ৩৮.৩১ গড়ে ২৫২৯ রান ও ১৪০ উইকেট নেয়া সাকিব এর আগেও বিগব্যাশে খেলেছেন। গত বছরই এ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সে খেলা হয়েছে সাকিবের। এবারও কথা চলছে। তবে এখনও দল খুঁজে পাননি। ১৪১ ওয়ানডে খেলে ৩৪.৫৮ গড়ে ৩৯৭৭ রান ও ১৮২ উইকেট নেয়া সাকিব আইপিএল, সিপিএলেও সুযোগ হলে খেলতে পারবেন। ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর সাকিব তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন। উম্মে আহমেদ শিশিরকে বিয়ে করেন। এরপর যেন সাকিব আরও জ্বলে উঠেন। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে এক টেস্টে শতক ও ১০ উইকেট নেয়ার ইতিহাস গড়েন। যে ইতিহাস শুধু ইয়ান বোথাম ও ইমরান খানেরই ছিল। তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব সেই ইতিহাস গড়েন। অসামান্য ইতিহাস। এমনটি গড়ে সাকিব টেস্টের শীর্ষস্থানটি আবারও দখল করে নেন। ওয়ানডেতে দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৪০০০ রান করার একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু ৫টি ওয়ানডে পেয়েও তা কাজে লাগেনি। ২৩ রানের জন্য তা করা হয়নি। তবে ব্যাটিং-বোলিংয়ে সামঞ্জস্য বজায় রেখে ঠিকই অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ে সেরা তিনে আছেন। আর টি২০-তে সাকিব খুব বেশি খেলেননি। ৩৫টি টি২০ খেলে ৭৫২ রান ও ৪৪ উইকেট নিয়েছেন। এপ্রিলে সর্বশেষ টি২০ খেলেছিলেন। এরপর আর খেলা হয়নি। এরপরও সাকিব টি২০’র সেরা স্থানটিতে আসীন হয়ে গেছেন। হাফিজ ব্যর্থ হওয়াতেই সাকিবের ঝুলিতে ১ নম্বর স্থানের মর্যাদার আসনে বসার সুযোগ হয়েছে। সাকিব এখন বিশ্বসেরাদের সেরা। একসঙ্গে তিন ফর্মেটের ক্রিকেটে সেরা তিনে থাকা ক্রিকেটার এখন সাকিবই। এ স্থানে আর কেউ নেই।