২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইউক্রেনে আগ্রাসন, আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগের প্রস্তুতি


ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কে ফের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতায় উস্কানি দেয়ার জন্য কিয়েভ মস্কোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার ইউক্রেনের বিচারমন্ত্রী পাভলো পেত্রেঙ্কো এ কথা বলেছেন। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।

কিয়েভ অভিযোগ করেছে যে, মস্কো বিদ্রোহী অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চলে সামরিক সরঞ্জামাদি পাঠান ও সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ ঘটানোর মতো কাজ করেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্চে বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে কৃষ্ণসাগরীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়ার নিজের সঙ্গে সংযুক্ত করার পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন দেশগুলো প্রথম নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু হয়। রাশিয়া অবশ্য ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে বা সৈন্য পাঠিয়ে সহায়তা করার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। পেত্রেঙ্কো বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে যার মধ্যে ইউক্রেন সীমান্তের মধ্যে বিদ্রোহীদের আর্থিক সহায়তা দেয়ার মতো ‘সন্ত্রাসবাদী’ কর্মকা-ও। বুদাপেস্ট মেমোরেন্ডাম স্বাক্ষরের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী আরসেনি ইয়াতসেনুক শুক্রবার বলেছেন, স্মারকপত্রে স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও রাশিয়া কিভাবে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাতে পারে। ১৯৯৪ সালে সম্পাদিত ওই স্মারকপত্রে ইউক্রেন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র স্বাক্ষর করেছিল। এতে পরমাণু অস্ত্র সমর্পণের বিনিময়ে ইউক্রেনকে ভূখ-গত অখ-তা রক্ষাসহ সব রকম আঞ্চলিক ঝুঁকি মোকাবেলায় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছিল। শীতলযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রাশিয়া ও পশ্চিমাদেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক এখন সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ইয়াতসেনুক অভিযোগ করেছেন রাশিয়া বুদাপেস্ট মেমোরেন্ডাম, জাতিসংঘ সনদ, হেলসিঙ্কি চূড়ান্তসহ বহু আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। রাশিয়া যেন আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করে সে জন্য চাপ প্রয়োগ করার জন্য ইউক্রেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে স্বাক্ষরিত অস্ত্রবিরতি প্রায় ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি এ্যা- কোঅপারেশন ইন ইউরোপ বা ওএসসিইর মধ্যস্থতায় ওই চুক্তি হয়েছিল। গত এক সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে হানাহানিতে অন্তত ১২ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার নিরবতা দিবস পালন করা হয়। এদিকে জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেলও রাশিয়ার আগ্রাসনমূলক কর্মকা-ের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইউক্রেনের ভূখ-গত অখ-তা নিয়ে নিয়ে কোন আপস করা হবে না।