১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বছরে মাদকে লেনদেন ৩২ হাজার কোটি টাকা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩২ হাজার কোটি টাকার মাদকের লেনদেন হয়। মাদকের মধ্যে ইয়াবা রীতিমতো আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভাবে প্রায় ৫০ হাজার মামলা জমে আছে।

সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। অধিদফরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ বজলুর রহমানের সভাপত্বিতে সভায় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাপরিচালক আমির হোসেন, পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল আহসান মজুমদার, পরিচালক (অপারেশন) প্রণব কুমার নিয়োগীসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে অস্ত্র রয়েছে। কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ঢাল তলোয়ারহীন। অভিযান পরিচালনা করতে গেলে অন্যের সহায়তা নিতে হয়। ঘোষণা দিয়ে অভিযানে নামলেও তথ্য ফাঁস হওয়া মাদক ব্যবসায়ীরা জেনে যায়। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ কক্সবাজারের শাহপরী দ্বীপে অভিযান পরিচালনা করতে গেলে ইউনিফর্মের পাশাপাশি নিজস্ব অস্ত্রধারী ফোর্স থাকলে অনেকটা সুফল হতো।

মাদক ব্যবসার সঙ্গে কক্সবাজারের এক সংসদ সদস্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীকে আমরা অন্য কোন চোখে দেখি না। এতে কোন রাজনৈতিক চাপও নেই। ইয়াবা চোরাচালানের মূল রুট কক্সবাজারের টেকনাফে নতুন সার্কেল প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি পেলেই মাদক নির্মূল সম্ভব।

পরিবেশ আদালতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ আদালত থাকলেও প্রাণঘাতী মাদকের অপব্যবহার রোধে আলাদা কোন আদালত নেই। আদালতের প্রসিকিউশনের মাদকের নিজস্ব জনবলও নেই। মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে সাক্ষীও খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব জটিলতায় গত ২ যুগে সারাদেশে ৪৯ হাজার ৮২৩টি মাদকের মামলা আটকে আছে।

অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে দিয়ে মাদকের চোরাচালান রোধে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলেন, অধিদফতরের চাহিদার তুলনায় জনবল কম, যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাজেটের অপ্রতুলতা, নিজস্ব ভবন, ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক, আধুনিক সরঞ্জাম ও ঝুঁকিভাতা না থাকায় অভিযান চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাদকের মামলার জন্য একক কোন আদালত নেই। এজন্য মামলা নিষ্পত্তি হয় না। ২৫ টাকা মূল্যের প্যাথেড্রিন মিটফোর্ডের বাজারে বিক্রি হয় ৫শ’ টাকায়। অথচ এসব প্যাথেড্রিন বিক্রির অনেকেরই লাইসেন্স নেই। ওষুধ প্রশাসন এর মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। এজন্য বিধি তৈরির চেষ্টা চলছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: