২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সিরাজগঞ্জে আন্তঃনগর ট্রেন লাইনচ্যুত ॥ স্টেশন মাস্টার পলাতক


স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ ॥ বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পারের সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদ স্টেশন এলাকায় রবিবার সকাল সোয়া আটটায় রাজশাহী-ঢাকাগামী রাজশাহী এক্সপ্রেস নামের আন্তঃনগর ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ ঘটনার পর উত্তরাঞ্চল ও খুলনার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়ে পশ্চিম রেলের ট্রেনের টাইম সিডিউল। তবে লাইনচ্যুত রাজশাহী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করার সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর এই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। লাইনচ্যুতির খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর আসনের এমপি অধ্যাপক ডাঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না, জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই সঙ্গে পশ্চিম রেলের জিএম আব্দুল আউয়াল ভুঁইয়া, প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার কাজের তদারকি করছেন। ট্রেনটির লোক মাস্টার মোঃ শামসুল ইসলাম জানান, ভোর সাড়ে ৪টার সময় ঈশ্বরদী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ট্রেনটি নিয়ে সায়দাবাদ স্টেশন অতিক্রম করে সেতুতে ওঠার আগেই ইঞ্জিনসহ ৫টি বগি লাইনচ্যুত হয়। তিনি আরও জানান, এ সময় ট্রেনটিতে প্রায় ১১শ’ যাত্রী ছিল। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে সেতু এলাকার নিরাপত্তাজনিত কারণে কোন মালামালও খোয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনায় কবলিত যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার (পাকশী) মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে একতা এক্সপ্রেস নামের একটি আন্তঃনগর ট্রেন সায়দাবাদ স্টেশন এলাকা ক্রস করে সেতু পার হয়। কিন্তু সেই ট্রেনটির লাইন ছিল মিটার গেজের। ওই ট্রেন চলে যাওয়ার পর লাইন পরিবর্তন না করেই স্টেশন মাস্টার সবুজ সংকেত দিয়ে রাজশাহী এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটিকে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ট্রেনটি ব্রডগেজ হওয়ার কারণে সেতুতে ওঠার আগেই ইকোপার্ক এলাকায় একের পর এক লাইনচ্যুত হতে থাকে। তিনি আরও জানান, ওই স্টেশন মাস্টারের ভুলের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে রেলওয়ের বিভাগীয় কর্মকর্তা (পরিবহন) মোঃ শফিকুল ইসলামকে প্রধান করে ইতোমধ্যে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে।