১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কুয়াশার চাদরে আবৃত ক্যাম্পাস


ঘড়ির কাঁটা দুপুর পেরিয়েছে। সময়ের যাত্রা এখন শেষ বিকেলের দিকে। অথচ আকাশে দেখা নেই সূর্যিমামার। সারা দিনে একবারের জন্যও উঁকি দেননি তিনি। কুয়াশার চাদর ঢেকে দিয়েছে চরাচর। সূর্যি মামার আড়াল প্রকৃতিকেই করে তুলেছে রহস্যময়। জমাটবদ্ধ কুয়াশা। একটু যেন ধমকে গেছে জীবনের গতি। এ অবস্থা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। ঘন কুয়াশায় ক্যাম্পাস জমতে জমতে প্রায় বারোটা-একটা বেজে যায়। তার আগে ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকাই থাকে। যারা সকালে আসে তাদের হয় পরীক্ষা না হয় ক্লাস থাকে। প্রায় হলের শিক্ষার্থীদের শীতে ঘুম থেকে দেরিতে উঠতে দেখা যায়।

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর চিত্র প্রায় একই রকম। হলের ভেতরে আগে অনেক রাত পর্যন্ত আড্ডা জমত। কেউ কেউ আবার হলের ছাদে গান করত, কেউ মোবাইল ফোনে কথা বলত কেউ বা আবার সারা রাতাই ছাদের উপরে ঘুমিয়ে কাটাত। কিন্তু এখন আর রাত দশটার পর খুব বেশি শিক্ষার্থীদের বাইরে দেখা যায় না। তবে এখন সন্ধ্যার পর হলের গেমস রুমগুলোতে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা যায়, শীতের কারণে শিক্ষার্থীরা টেবিল টেনিস, ক্যারম, দাবা, কার্ড খেলার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। আবার কোন কোন দিন ক্যাম্পাসে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা সবাই মিলে কাঠ সংগ্রহ করে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। শিক্ষার্থীরা আগুনের পাশে বসে আড্ডা জমিয়ে দিচ্ছে। কেউ বা আবার গিটার নিয়ে গান করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দেবাশীষ, তাহসিন, সোহেল, মৌলি, নিপা ও জেমি বলেন, রাজশাহীতে সবই বেশি বেশি হয়। গরমের সময় বেশি গরম আর শীতের সময় বেশি শীত। তবে এবারের মতো শীত তারা কোনবারই দেখেনি বলে জানান। প্রচুর পরিমাণে গাছপালা থাকার কারণে রাজশাহী মহানগরীর তুলনায় ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা ক্যাম্পাসে কম থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আবহাওয়া দফতর। তবে শীতের কারণে হলগুলোর সামনে জমে উঠেছে ব্যাডমিন্টন খেলা। শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ সহকারে এই খেলা খেলতে দেখা যাচ্ছে। সুমন নামের এক ব্যাডমিন্ট খেলোয়াড় বলেন, শীতের মজাই হলো ব্যাডমিন্টন খেলা। এদিকে অতিরিক্ত শীতের কারণে মাদারবক্স হলের আবাসিক ছাত্র আসাদুর রহমান বলেন, শীতের কারণে গোসল করতে ভয় করে। এত শীত পড়লে মানুষ বাঁচবে কি করে? ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা পথশিশু যারা চকোলেট বা সিগারেট বিক্রি করে দিন কাটায় তাদের কষ্ট কে দেখে? এমনই একজন যার নাম সম্রাট, বয়স ১১-১২ হবে। তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এত শীতের মধ্যে ও শুধু শার্ট পরে ক্যাম্পাসে সিগারেট বিক্রি করতে শীত লাগে না, তখন সে বলে শীত লাগলেইবা কি করব? আমাদের কষ্ট কেউ দেখে না। আর সকাল সকাল না আসলে তাদের পেটে ভাত জুটবে না। এজন্য যত শীতই পড়ুক না কেন কাঁপতে কাঁপতে সকালে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। মোটা মোটা কাপড় পরলেও আর শীত কমছে না। আবার ক্লাস শেষে একটু রোদের জন্য ভবনগুলোর ছাদে লাইন দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পুরো ক্যাম্পাসেই শীতের প্রভাব পড়েছে। শীতের তীব্রতা যতই বাড়ছে ততই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পাস।

সাইফুর রহমান আকন্দ