১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শীতের ফ্যাশন


গাঢ় কুয়াশায় ডুবে আছে প্রকৃতি। দুরান্তের গোলাকার মাঠ আর বাড়িঘর, গাছ নদী যেন শীতের লাজুক ছোঁয়ায় কেমন নিমগ্ন হয়ে আছে। হাল্কা রোদের ঝিলিক দেয়া দিগন্ত তাই প্রত্যাশিত একটি বিষয়। হেমন্তের রং মুছে গিয়ে নিসর্গের পরতে পরতে বাসা বাঁধতে শুরু করেছে শীতের ধূসর আবহ, আর সেইসঙ্গে বদলে যাচ্ছে দৈনন্দিন জীবনের রুটিনগুলো। প্রবল শীতে একটু উষ্ণতার জন্য তাই শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রানুভূতি হয়ে উঠে দারুণ আকাক্সিক্ষত। উষ্ণতার এই আকাক্সক্ষা চাইলেই কি মেলে! কেননা শীতের বৈশিষ্ট্যই এমন যে হিমঝরা হাওয়ার সঙ্গে বসবাস। উত্তরে হিমেল বাতাসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাটাই যেন উত্তম, আর তাই শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য রুটিনের সঙ্গে পাল্টে যায় পোশাকের ধরনও।

দিনের তাপমাত্রার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা যখন ক্রমশ কমতে থাকে তখনও গরম কাপড়ের যোগাড়-যন্ত্ররও বেড়ে যায় ততধিক। কোট, স্যুট, ব্লেজার, সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল, চাদর, কার্ডিগান, জাম্পার, মাফলার, কানটুপিসহ প্রভৃতি গরম কাপড়ের সঙ্গে লেপ-কম্বলের ব্যবহারও বিপুলভাবে শুরু হয়ে যায় দৈনন্দিন জীবনে। জীবনের প্রয়োজনেই শীতকালে পোশাকের রূপবদলের সঙ্গে সঙ্গে পারিপার্শ্বিক পরিবর্তনও পরিলক্ষিত হতে দেখা যায়। এ পরিবর্তন শুধু পোশাকেই নয়। খাবার-দাবারেও পরিবর্তনের ধারাটা বিশেষ দৃষ্টি কাড়ে। বিশেষ করে শাক-সবজিতে যেমন আসে নতুনত্ব, তেমনি চলমান জীবনে পিঠা-পায়েস-ক্ষিরসহ নানাবিধ আয়েশী খাবারের ধরনেও শীতের একটা আলাদা আমেজ ফুটে ওঠে।

বাঙালীর চিরায়ত ঋতু বৈচিত্র্যের আবহমান ধারাটা এমনভাবে জীবনের প্রতিটি ছন্দে স্পন্দিত হয়Ñ যা মন ও শরীরকে দারুণ আন্দোলিত করে। প্রতি ঋতুতেই তাই ভিন্ন ভিন্নভাবে সেজে ওঠে প্রকৃতি। আর প্রকৃতির সঙ্গে সেজে ওঠে মানুষ ও পরিবেশ।

হেমন্তের প্রস্থানের আগে-ভাগেই শীতের উপস্থিতিটা একটু একটু করে প্রকৃতি জানান দিতে থাকে। আর এই জানান দিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিপুল এক প্রস্তুতি পর্ব দৈনন্দিন জীবনকে যেন কিছুটা ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। আলমিরা, ওয়ারড্রবের নির্জন ড্রয়ারে ভাঁজ হয়ে পড়ে থাকা গরম কাপড়ের হৃদস্পন্দনে বেজে ওঠে নতুন সিম্ফনি। আর ওই সিম্ফনির আনন্দঘন রেশ যেন লাগে এসে জীবনে। এভাবেই শীতকে বরণ করে নেয় মানুষ।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : মাহিয়া মাহি, মম ও সাইমন